রূপগঞ্জের সনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘নগরপাড়া ব্রাইট শিশু কানন হাই স্কুল’-এ আবারও সংঘটিত হলো পরিকল্পিত লুটপাটের ঘটনা। রাতের অন্ধকারে হানা দিয়ে বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, মূল্যবান আসবাবপত্র ও শিক্ষা উপকরণ লুট করে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এটি নিছক কোনো সাধারণ চুরি নয়, বরং পূর্বপরিকল্পিত কোনো নাশকতার অংশ বলেই মনে করছেন এলাকাবাসী ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর আগেও এই প্রতিষ্ঠানে অন্তত দুবার রহস্যজনক চুরির ঘটনা ঘটেছিল, যা স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে চক্রের এক সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও, মূল হোতাসহ অন্তত দুজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। বারবার একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা প্রমাণ করে যে, এর পেছনে কোনো সুসংগঠিত অপরাধ চক্র বা স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের হাত রয়েছে। একের পর এক এমন ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। শুক্রবার রাতে যে কোন সময় এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবীতে বিক্ষুব্ধ স্কুল শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, ও অভিভাবকরা নগরপাড়া-চনপাড়া সড়কের নগড়পাড়া বাজারে রাস্তা আধঘন্টা অবরোধ করে রাখে।
গত কয়েকদিনের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া এই ন্যাক্কারজনক লুটপাটের ঘটনায় শুধু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই নয়, পুরো এলাকাবাসী আতঙ্ক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা রাসেল আহমেদ বলেন, এটি কোনো আকস্মিক চুরির ঘটনা নয়। এর আগেও এই প্রতিষ্ঠানে অন্তত দুবার রহস্যজনক চুরির ঘটনা ঘটেছিল। প্রতিবারই চোরেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফ্যান, আসবাবপত্র এবং দাপ্তরিক গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র টার্গেট করেছে। বারবার একই কায়দায় ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার বিষয়টি স্পষ্ট করে যে, এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পনা মাফিক এবং বিদ্যালয়ের ভেতরের বা বাইরের কোনো প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে পরিচালিত হচ্ছে।
সর্বশেষ ঘটনার পর স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের সহায়তায় পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং সন্দেহভাজন সজিব ওরফে সইজ্জা নামে এক চোরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃতের দেওয়া প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, এই চক্রের সাথে জড়িত কালা জাহাঙ্গীর ও আলআমিন নামে আরো দু’জন সক্রিয় সদস্য জড়িত ছিল। যারা অভিযানের আগেই পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে এবং লুণ্ঠিত মালপত্র উদ্ধারে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে।
দিনের পর দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন নৈরাজ্য চলতে থাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তাদের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বারবার চুরি হওয়া মানে কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার গভীর ষড়যন্ত্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার কিছু বখাটে ও মাদকাসক্ত যুবকের আনাগোনা এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে উসকে দিচ্ছে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, শুধু চোর চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করলেই এই সংকটের সমাধান হবে না; এর নেপথ্যে থাকা মূল কুশীলবদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এএসএম সালাউদ্দিন বলেন, ঘটনা শুনে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পড়ুন : প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গরের বৈঠক
সা/


