পাবনা জেলা জাসাসের আহ্বায়ক ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আলোকচিত্রী (ফটোগ্রাফার) খালেদ হোসেন পরাগের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের প্রলোভনে অর্থ আত্মসাৎ, সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া সহ বিভিন্ন অভিযোগে পাবনায় মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে পাবনার সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে আব্দুল হামিদ সড়কে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।
একইসঙ্গে তিনি ডিজিএফআই ও এনএসআই-এর ক্ষমতার অপব্যবহার করে গণমাধ্যমকর্মী ও সাংবাদিকদের নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসার অভিযোগ রয়েছে।
জুলাই ঐক্য পরিষদ পাবনার সদস্য আবদুল্লাহ আল-নোমানের সঞ্চালনায় মানববন্ধন কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন, পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ইমামুর রহমান, জাতীয় নাগরিক কমিটি পাবনার যুগ্ম-আহ্বায়ক নুর হোসেন শিমুল, পাবনা সদর উপজেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সদস্য সচিব মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, জুলাই রাজবন্দী অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক প্রকৌশলী আবদুল্লাহ কবির তন্ময়, সাংবাদিক মোবারক হোসেন বিশ্বাস প্রমুখ।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দিলালপুর এলাকার মো: আবদুল নাহিদ মিয়া মিথুন নামের এক সহযোগীর মাধ্যমে পরাগ চাঁদাবাজির অর্থ আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর (হিসাব নং-০৫৪১০২০০১০১৫৪) অ্যাকাউন্টে পাঠানোর জন্য ব্যবসায়ীদের বাধ্য ও চাপ প্রয়োগ করতেন।
পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ইমামুর রহমান স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্ত খালেদ হোসেন পরাগ তাঁর পদমর্যাদা ও প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পাবনার ব্যবসায়ী সমাজকে জিম্মি করে অনৈতিক চাপ প্রয়োগ, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইল করে আসছেন। স্মারকলিপিতে তাঁর বিরুদ্ধে নিয়মিত মাদক সেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলাকারী ও হত্যা মামলার আসামিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন আলোকচিত্রীর এসব অপকর্ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপি ও সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে এবং সাধারণ ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক সমাজের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় অবিলম্বে খালেদ হোসেন পরাগ ও তাঁর সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান তাঁরা।
মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বরাবর একটি লিখিত স্মারকলিপি জমা দেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে খালেদ হোসেন পরাগ বলেন, যেসব অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে তার কোনো ধরনের সত্যতা নাই। পুরোটাই ভুয়া আর মিথ্যা। কোথায় কার কাছে কবে কত টাকা চাঁদাবাজী করছি, কোথায় কার জমি দখল করেছি, তারা দেখাক। তারা আমার বিরুদ্ধে একটা অভিযোগেরও প্রমাণ দিতে পারবে না।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

