সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে পরিবেশ দূষণ ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালনার অভিযোগে চারটি প্রসেস ও ডাইং কারখানায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে কারখানাগুলোকে মোট ৯ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
রোববার (২ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলার তামাই এলাকার হাজী গোলাম হোসেন ডাইং এবং চালা অফিসপাড়া এলাকার করিতলা চৌধুরী প্রসেস মিল, ইভান এন্ড পারিশা প্রসেস মিল ও একতা ডাইংয়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন বেলকুচি উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইসরাত জাহান। এ সময় বেলকুচি থানা পুলিশের সদস্য, আনসার বাহিনী, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদস্য এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শনিবার (১ আগস্ট) নাগরিক টেলিভিশন অনলাইনে বেলকুচির মকন্দগাতি এলাকার চালা কালিবাড়ি হাট রোডে গড়ে ওঠা একাধিক প্রসেস ও মার্চেন্ডাইজিং মিলের বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা ও নানা অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় দূষিত হচ্ছে নদী ও আশপাশের পরিবেশ। কয়েকটি কারখানার বর্জ্য পানি সরাসরি নদীতে গিয়ে পড়ায় পানিতে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। একসময় যে নদীতে স্থানীয়রা গোসল করতেন, মাছ ধরতেন ও গবাদিপশু গোসল করাতেন, দূষণের কারণে এখন সেই নদীতে নামাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিনের দূষণের কারণে আশপাশের কয়েকটি টিউবওয়েলের পানিতেও দুর্গন্ধ দেখা দিয়েছে। এতে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগের তালিকায় রয়েছে চৌধুরী মার্চরাইজ মিল, মেসার্স ইভান এন্ড পারিশা মার্চরাইজিং, মেসার্স ন্যাশনাল মার্চরাইজিং মিল, মেসার্স একতা ডাইং ও মেসার্স শাহাজালাল প্রসেস মিলসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রোববার অভিযানে চারটি কারখানার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদন সংক্রান্ত বিষয় যাচাই করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পর্যাপ্ত অনুমোদন বা কাগজপত্র না থাকায় অভিযান চলাকালে কারখানাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হলেও পরে আবার কার্যক্রম শুরু করে প্রতিষ্ঠানগুলো।
স্থানীয়দের দাবি, জরিমানা ও সাময়িকভাবে কারখানা বন্ধ করার পরও যদি একইভাবে পুনরায় কার্যক্রম চালানো হয়, তাহলে এ ধরনের অভিযান দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ফল দেবে না। অবৈধ কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে স্থায়ী ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিবেশ সুরক্ষায় এ ধরনের মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
পড়ুন : সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে হাওরে নৌকাডুবি, নিখোঁজ চারজনের মরদেহ উদ্ধার


