তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ক্ষমতার বাইরে থাকাকালে যেভাবে সুশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথে আন্দোলন করা হয়েছে, ক্ষমতায় থেকেও একইভাবে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা সুশাসন নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ রেখে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা গেলে তবেই শহীদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা হবে।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) যৌথ উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হওয়ার ৫৫ বছর পরও যদি ভোটাধিকারের জন্য মানুষকে প্রাণ দিতে হয়, তবে তা জাতির জন্য লজ্জাজনক এবং আত্মসমালোচনার বিষয়। তবে নানা ত্যাগ ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অর্জিত ভোটাধিকারের ভিত্তিতেই জনগণ তাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে। বর্তমানে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জাতীয় সংসদ পরিচালনা করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সংসদকে রাজনীতির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, এত ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত সংসদ। কিন্তু শহীদদের স্মরণ করার সময়ও রাজনীতিকে সংসদের বাইরে বা রাজপথে টেনে নেওয়ার অপচেষ্টা চলছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মূল্যবোধবহির্ভূত কর্মকাণ্ড, অশ্লীলতা ও নানা চক্রান্তের আশ্রয় নেওয়ার প্রবণতাকে উদ্বেগজনক বলেও উল্লেখ করেন।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষরের সঙ্গে শহীদদের আত্মত্যাগ জড়িয়ে আছে। দেশনায়ক তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় বর্তমান সরকার নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে জুলাই সনদের শতভাগ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংসদকে আরও কার্যকর করা, বিচার বিভাগের মর্যাদা বৃদ্ধি, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, অতীতে বিরোধী দলে থেকে যেভাবে গণতন্ত্র ও সুশাসনের জন্য আন্দোলন করা হয়েছে, বর্তমানে সরকারও একই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে। গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য বজায় রেখে সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে শহীদদের আত্মত্যাগের যথার্থ মূল্যায়ন হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনটির মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল, যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদারসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন: ৩ আগস্টের সেই ‘১ দফা’: যে ঘোষণায় এক হয়েছিল গোটা দেশ
আর/


