বিজ্ঞাপন

জিনের নির্দেশে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের ঘটনায় অনুসন্ধানে গিয়ে সাংবাদিক লাঞ্ছিত

জামালপুরের মেলান্দহে জিনের নির্দেশে কবর থেকে এক নারীর মরদেহ উত্তোলনের ভাইরাল ঘটনার অনুসন্ধান করতে গিয়ে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন দৈনিক কালবেলার জামালপুর প্রতিনিধি মশিউর রহমান। এ ঘটনায় ওই নারীর ছেলে মাহমুদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ূন কবির, তার ভাইসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী সাংবাদিক মশিউর রহমান মেলান্দহ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের ঘটনাটি প্রকাশিত হলে অফিসের দায়িত্বে ঘটনার প্রকৃত তথ্য সংগ্রহের জন্য তিনি ওই নারীর বাড়িতে যান। সেখানে স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের ডাক দেওয়া হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হুমায়ূন কবির ও তার স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে লাঠিসোটা হাতে মারমুখী আচরণ শুরু করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এসে সাংবাদিককে সেখান থেকে নিরাপদে বের করে দেন। এ সময় হুমায়ূন কবির তার রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহের জন্য তাদের বাড়িতে গেলে হত্যার হুমকিও দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মশিউর রহমান বলেন, জিনের নির্দেশে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানতে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর হুমায়ূন কবির ও তার ভাইয়েরা অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে তার ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, হুমায়ূন কবিরের ভাই হালিম মাদানী সাংবাদিকদের ‘কাফের’ বলে সম্বোধন করেন এবং ভাইরাল সংবাদ নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বিষয়টি স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি। এ কারণে তিনি মেলান্দহ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, সাংবাদিকের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে কবর থেকে মৃত হালিমার মরদেহ উত্তোলন করে হাসপাতালে নেওয়ার ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন—জিনের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, হালিমা এখনও জীবিত আছেন। পরে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে হাসপাতালে নিয়ে ইসিজিসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে পুনরায় মরদেহ দাফন করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আসাদুজ্জামান জানান, শুক্রবার রাতে হালিমার মৃত্যু হয় এবং শনিবার সকালে তাকে দাফন করা হয়। তবে রাতে পরিবারের কয়েকজন সদস্য দাবি করেন, তিনি জীবিত আছেন। এরপর পরিবারের সিদ্ধান্তে মরদেহ কবর থেকে তুলে প্রথমে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলে গভীর রাতে পুনরায় গোসল করিয়ে মরদেহ দাফন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : পঞ্চগড়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে চা বাগান দখল চেষ্টার অভিযোগ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন