রেকর্ড তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ায় সরকার পরিস্থিতিকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে। টানা কয়েক সপ্তাহের অস্বাভাবিক গরমে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি দুই হাজারের বেশি মানুষ তাপজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার আবহাওয়া প্রশাসন (KMA) জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইয়াংসান (Yangsan) শহরে মঙ্গলবার ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ১৯০৪ সালে আবহাওয়ার তথ্য সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর এটি দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। রাজধানী সিউলসহ দেশের অধিকাংশ এলাকায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া তাপপ্রবাহে ২ হাজারের বেশি মানুষ হিটস্ট্রোক, হিট এক্সহস্টশন ও ডিহাইড্রেশনে আক্রান্ত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই বয়স্ক ব্যক্তি, কৃষিশ্রমিক এবং নির্মাণশ্রমিক, যারা দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে কাজ করছিলেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিক, শিশু এবং বাইরে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকার সারা দেশে শত শত শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ‘কুলিং সেন্টার’ চালু করেছে এবং স্থানীয় সরকারগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
তাপপ্রবাহের কারণে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতেও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত গরমে বিপুলসংখ্যক গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকেরা জানিয়েছেন, ধান, সবজি ও ফলের উৎপাদনেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিদ্যুতের চাহিদা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছায় সরকার বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থাও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় উচ্চচাপ বলয় এবং উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুর প্রভাবে দক্ষিণ কোরিয়ায় এ বছরের গ্রীষ্ম স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি উষ্ণ হয়ে উঠেছে। আগামী কয়েক দিনও তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া প্রশাসন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়ছে এবং দক্ষিণ কোরিয়াও এর প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে তাপপ্রবাহের সময়কাল, তীব্রতা এবং তাপমাত্রা—তিনটিই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
পড়ুন : বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে আবারও বড় পতন
সা/


