নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় বানোয়াট অভিযোগ তুলে মোমিন খান (৫৫) নামের এক ব্যক্তির মাথা প্রকাশ্যে ন্যাড়া করে চরম অপমান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। অমানবিক এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামে মোমিন খানের নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ভুক্তভোগী মোমিন খান ওই গ্রামেরই বাসিন্দা। এ ঘটনায় তিনি বারহাট্টা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য থেকে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই রাতে সাহতা ইউনিয়নের হেলোচিয়া বাজারের একটি চায়ের দোকানে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে আলাপচারিতায় অংশ নেন মোমিন খান। সেখানে সাধারণ একটি মন্তব্য করেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার ওই বক্তব্যকে বিকৃত করে এবং তার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়ে দেয়।
গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে মিছিল নিয়ে মোমিন খানের বাড়িতে যায়। এ সময় তাকে বাড়িতে না পেয়ে অভিযুক্তরা তার পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখায়। তারা নির্দেশ দেয়, পরদিন অনুষ্ঠিতব্য সালিশে মোমিন খানকে অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে। অন্যথায় তাদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো ভয়ংকর হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের নিরাপত্তা ও প্রাণভয়ে পরদিন ২৯ জুলাই সকাল ১১টার দিকে মধুপুর এলাকার আল-আরাফা মিফতাহুল উলুম মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত সালিশে উপস্থিত হন মোমিন খান। সেখানে পরিস্থিতি শান্ত করতে তিনি ক্ষমা প্রার্থনাও করেন। এরপরই তথাকথিত সালিশের সিদ্ধান্তের নামে চরম অমানবিকতার শিকার হন তিনি। শত শত মানুষের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে তার মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, বাড়িতে ফেরার পরও তাকে বেশ কয়েকবার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে।
এই চরম অপমান ও হুমকির পর ন্যায়বিচারের আশায় মোমিন খান বারহাট্টা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে ছয় জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১০-১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম সাংবাদিকদের বলেন, “এ ঘটনায় দুই পক্ষ থেকেই আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, মোমিন খানের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার বিরুদ্ধে তীব্র অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন, জনসম্মুখে তা তুলে ধরা এবং এসব মিথ্যা অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানাতেই তারা এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন। তারা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পড়ুন : অবৈধ জালের কবলে এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওর, বিপন্ন দেশীয় মাছের প্রজনন


