এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এখন একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির পালা। তবে এবার একাদশে ভর্তিতে আসন নিয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের দুশ্চিন্তার কারণ নেই। কারণ, একাদশে ভর্তিতে মোট আসনের তুলনায় এসএসসিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা অর্ধেকেরও কম। ফলে সব উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী একাদশে ভর্তি হলেও সারা দেশে কয়েক লাখ আসন ফাঁকা থাকবে।
একইসঙ্গে বরাবরের মতো এবারও লটারি বা ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে একাদশে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীর স্কোর বা জিপিএ এবং পছন্দক্রমের ভিত্তিতে কলেজে আসন বরাদ্দ দেওয়া হবে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে পুরো ভর্তি কার্যক্রম।
সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে একাদশে ভর্তি নিয়ে এসব তথ্য জানান আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিডিউল ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সময়সূচি অনুযায়ীই ভর্তি কার্যক্রম চলবে। ভর্তিতে লটারি বা পরীক্ষা হবে না। প্রচলিত নিয়মে শিক্ষার্থীর স্কোর এবং তার চাহিদার ভিত্তিতে আসন বরাদ্দ করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনও একই তথ্য জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগের পদ্ধতিতেই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হবে। অর্থাৎ এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার মার্ক বা জিপিএর ভিত্তিতে শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে।
শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে সারা দেশের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মোট আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। বিপরীতে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। অর্থাৎ একাদশে ভর্তির জন্য বিদ্যমান মোট আসনের তুলনায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা অর্ধেকেরও কম।
সব উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী একাদশে ভর্তি হলেও বিপুলসংখ্যক আসন পূরণ হবে না। ফলে সার্বিকভাবে এবারও একাদশ শ্রেণিতে আসন সংকটের কোনো সম্ভাবনা নেই, বরং অনেক আসন খালি পড়ে থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
বিষয়টি নিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, গত বছর একাদশ শ্রেণিতে যে সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল, এবার তার তুলনায় আরও বেশি আসন শূন্য থাকবে। দেশে একাদশ শ্রেণিতে মোট আসন প্রায় ২৫ লাখ। গত বছরও মোট আসনের উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ হয়নি। এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার আরও কম হওয়ায় খালি আসনের সংখ্যা বাড়তে পারে।
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে লটারি বা ভর্তি পরীক্ষা না থাকায় শিক্ষার্থীদের কলেজ পাওয়ার ক্ষেত্রে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীর ফল, সংশ্লিষ্ট কলেজের নির্ধারিত যোগ্যতা, আসনসংখ্যা এবং শিক্ষার্থীর দেওয়া পছন্দক্রমের ভিত্তিতেই ভর্তির জন্য আসন নির্ধারণ করা হয়। আবেদন করার সময় একজন শিক্ষার্থী তার পছন্দ অনুযায়ী একাধিক কলেজ নির্বাচন করতে পারেন। এরপর সংশ্লিষ্ট কলেজের আসনসংখ্যা, বিভাগ, শিফট ও নির্ধারিত যোগ্যতার পাশাপাশি আবেদনকারীর ফলাফল বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়।
ফলে কোনো কলেজে আবেদন করলেই সেখানে ভর্তি নিশ্চিত হয় না। কোনো একটি কলেজে নির্ধারিত আসনের তুলনায় আবেদনকারী বেশি হলে ওই কলেজের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফলে এগিয়ে থাকা শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার পায়। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীর পছন্দক্রমও বিবেচনায় নেওয়া হয়। ফলে একজন শিক্ষার্থী প্রথম পছন্দের কলেজে সুযোগ না পেলে তার পরবর্তী পছন্দের কলেজে আসন পাওয়ার সুযোগ থাকে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

