নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা দখল করে পাকা দোকানঘর নির্মাণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক কাম-নৈশপ্রহরী (দপ্তরি) মো. দাউদ হোসেন ও তার বাবা মো. সেরাজুল হকের বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ের মূল ভবনের দেয়াল ঘেঁষে নির্মাণকাজ চলায় একপাশের জানালা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিন উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের দোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের মূল ভবনের দেয়াল ঘেঁষে প্রায় ১০ ফুট চওড়া ও ১৫ ফুট লম্বা জায়গায় রড, বালু ও সিমেন্ট দিয়ে পাকা দোকানঘর নির্মাণের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে দোকানের মেঝে ঢালাই ও কলাম নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। ছাদ ও দেয়াল নির্মাণের জন্য কয়েক হাজার ইট, বালু, রড ও সিমেন্টও সেখানে মজুদ করে রাখা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজ শেষ হলে বিদ্যালয়ের ভবনের এক পাশের সবগুলো জানালা প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। এতে শ্রেণিকক্ষে আলো-বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হতে পারে।
তাদের আরও অভিযোগ, স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে বিদ্যালয়ের জায়গা দখল করে দোকানঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত দাউদ হোসেন ও তার বাবা সেরাজুল হক।
তবে অভিযুক্ত দাউদ হোসেন ও তার বাবা সেরাজুল হকের দাবি, বিদ্যালয়ের জায়গা নয়, নিজেদের বাড়ির যৌথ মালিকানাধীন জমিতেই দোকানঘর নির্মাণ করছেন তারা।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আলি হোসেন বলেন, নির্মাণকাজ বন্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার দায় ম্যানেজিং কমিটির ওপর বর্তায়। ম্যানেজিং কমিটি প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ না করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. বাহার বলেন, বিদ্যালয়ের দখলকৃত জমি চিহ্নিত করে তা বুঝে নিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে নির্মাণাধীন দোকানঘরের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোছা: উম্মে তাহনান সুলতানা বলেন, বিদ্যালয়ের জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণের কোনো অভিযোগ পাই নি। তারপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পড়ুন : কর্মমুখী শিক্ষায় দক্ষ প্রজন্ম গড়ার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী ব্যারিষ্টার মীর হেলালের


