কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি সিগারেট কারখানায় অভিযান চালিয়ে (আনুমানিক) দুই কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ২০ লাখ শলাকা নকল সিগারেট জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় সিগারেট তৈরির বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল ও বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়। পরে কারখানার মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার নির্দেশ দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস। এর আগেও ওই কারখানায় অভিযান চালিয়ে মালমাল জব্দ সহ সেটি সিলগালা করেছিলো র্যাব-১২ ও কাস্টমস বিভাগের যৌথ টিম।
আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত উপজেলার সদর ইউনিয়নের গড়বাড়িয়া গ্রামের হাবিব মাস্টারের গরুর ফার্মের গোডাউনের ভেতরে গড়ে তোলা সিগারেট কারখানায় অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা প্রশাসন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই গরুর ফার্মটির মালিক উপজেলার কল্যানপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান নকল সিগারেটের ব্যবসার সাথে জড়িত। কারন হিসেবে তারা বলেন, সেট না হলে হাবিব মাস্টার (গরুর ফার্মটির মালিক) আগের বার প্রশাসনের অভিযানের পর অবৈধ কর্মকান্ডের দায়ে ভাড়াটিয়াদের সাথে চুক্তি বাতিল করতে পারতেন। তারা আরো বলেন, হাবিব মাস্টার প্রকাশ্যে কোন দলের সাথে জড়িত না হলেও রাজনৈতিক ভাবে খুবই প্রভাবশালী।
অভিযোগের ব্যাপারে কল্যানপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাবিবুর রহমান বলেন, ২০ লাখ টাকা খরচ করে বিদ্যুত লাইন নিয়েছে, ৪ কোটি টাকার মেশিন স্থাপন করেছে। আমি চুক্তি বাতিল করলে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপুরণ দিতে হবে। ভাড়াটিয়াদের সাথে সম্পাদিত চুক্তিতে অবৈধ কর্মকান্ড চালানো যাবেনা এমন শর্ত থাকার কথা স্বীকার করলেও চুক্তি বাতিল করার বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি। অভিযোগ রয়েছে আপনি অবৈধ সিগারেট তৈরীতে জড়িত এই প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে উত্তেজিত কন্ঠে প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান বলেন, আমি ভাড়া দিয়েছি, তারা সেখানে কি করছে সেটা দেখার বিষয় আমার না। তারা সেখানে নিকির বউ (দ্বিতীয় বউ) নিয়ে বা বিয়ের বউ নিয়ে থাকবে সেটা আমার দেখার বিষয় না। সেটা প্রশাসনের বিষয়।
জানা গেছে, উপজেলার কল্যাণপুর এলাকার আজির উদ্দিন সরদারের ছেলে শাকিল আহমেদ (৩২) ও বৈদ্যনাথতলা এলাকার লিয়ন (৩০) মাসিক ৪০ হাজার টাকা চুক্তিতে গরুর ফার্মটি ভাড়া নেন। পরে সেখানে অবৈধ সিগারেট তৈরী করেন তারা । সেখানে নামিদামি ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট তৈরি করা হয় এই অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে জরিমানা ও সীলগালা করে প্রশাসন। পরে আদালতের আদেশে অবার কারখানাটি চালু করে অভিযুক্তরা। শাকিল ও লিওন গং আবারও নকল সিগারেট তৈরী করছে এই সংবাদে সেখানে অভিযান চালায় প্রশাসন। এসময় আনুমানিক ২ কোটি টাকা মূল্যের ‘নেভি, ডার্বি ও রয়েল’ ব্র্যান্ডের প্রায় ২০ লাখ শলাকা নকল সিগারেটসহ উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এবং নকল সিগারেট তৈরীর ২১০০ কেজি তামাক জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় ‘নেভি, ডার্বি ও রয়েল’ ব্র্যান্ডের প্রায় ২০ লাখ শলাকা নকল সিগারেটসহ উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা সিগারেটের মূল্য আনুমানিক ২ কোটি টাকা জানিয়ে তিনি বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, অভিযান চলাকালে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জব্দ করা অবৈধ মালামাল পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দৌলতপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালেদুর রহমান জানান, উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে নকল সিগারেট ও সিগারেট তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। আসামীদের নাম ঠিকানা এখনো পাওয়া যায়নি, সেগুলো পাওয়া গেলে মামলা দায়ের করা হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৯ মে র্যাব-১২ কুষ্টিয়া ও কাস্টমস বিভাগের যৌথ অভিযানে একই কারখানায় অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে পাঁচটি নকল সিগারেট তৈরির মেশিন এবং প্রায় ১ লাখ শলাকা নকল সিগারেট জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে কারখানাটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছিল। তবে কিছুদিনের মধ্যেই কারখানাটি পুনরায় চালু করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পড়ুন : বরগুনায় বিয়ের প্রলোভনে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারী, গ্রেপ্তার ১


