সিলেট নগরীতে স্বামী-স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার ঘটনায় বাবুল মিয়া নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেল তিনটার তাকে আটক করা হয়েছে। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বাকীর করেছে।
বুধবার সন্ধ্যায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে বাসার রঙ মিস্ত্রি বাবুল মিয়াকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে-ওই বাড়িতে কাজ করতো। সে সুবাদে কাজের মেয়ে তাহমিনার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনার আগে সকাল নয়টার দিকে সে বাড়িতে প্রবেশ করে। এরপর কাজের মেয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়।
তিনি বলেন, পরে কাজের মেয়েকে নিয়ে সে একটি রুমে প্রবেশ করে। তখন তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এসময় সে ছুরি দিয়ে মেয়েকে আঘাত করে। পরে নিহত আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী এগিয়ে এলে তাকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এরপর গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তাকেও হত্যা করে সে বারন্দা দিয়ে পালিয়ে যায়।
এর আগে বুধবার সকাল ৯টার দিকে নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, ওই বাসার বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী রাইয়া বেগম (৭২) ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনা আক্তার (১৫)। গৃহকর্মী তাহমিনা নগরীরর জল্লারপাড়া এলাকার বাসিন্দা আপ্তাব মিয়ার মেয়ে।
নিহত আব্দুস সাত্তার মিতালী আবাসিক এলাকার প্রথম বাসিন্দা এবং তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। আওয়ামী লীগের একজন প্রবীন কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর তিনি নিষ্ক্রিয় ছিলেন। আব্দুস সাত্তারের এক ছেলে ও তিন মেয়ে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৯টার দিকে বাসার ভেতরে নারীদের চিৎকার শোনেন প্রতিবেশিরা। পরে আর কোনো সাঁড়াশব্দ পাননি। সকাল ১০টার দিকে ১১১ নম্বর বাসার দু’তলার বারান্দায় রক্ত দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং সুরতহাল প্রতিবেদন ও সকল আলামত সংগ্রহ করার পর বিকেল চারটার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। তিনি বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের আঘাত করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি।’
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লেদি, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা।
পড়ুন : সাবেক মন্ত্রী ফরহাদের স্ত্রী মোনালিসা আরেক মামলায় গ্রেপ্তার


