বিজ্ঞাপন

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বনগাঁওয়েজৈব সার কারখানা ‘কমার্শিয়াল স্যাপার্সে’র মালিক পক্ষকে শোকজ ও নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বনগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন ধরনের অবস্থানগত ও পরিবেশগত ছাড়পত্র না নিয়েই হবিগঞ্জে ‘কমার্শিয়াল স্যাপার্স’ নামের একটি জৈব সার উৎপাদনকারী কারখানা স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে কারখানা নির্মাণ ও পরিবেশ দূষণের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

বিজ্ঞাপন

কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না- এই মর্মে কমার্শিয়াল স্যাপার্সের মালিকপক্ষ বনগাঁও পশ্চিমপাড়ার রমিজ আলীর ছেলে ছুরত আলী, সুজাত আলী ও সুন্দর আলীকে সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কারখানা নির্মাণের সব ধরনের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর হবিগঞ্জ জেলা কার্যালয় থেকে জারি করা নোটিশে বলা হয়েছে- বনগাঁওয়ে নুরে মোহাম্মদিয়া আলিম মাদ্রাসার বিপরীতে ‘কমার্শিয়াল স্যাপার্স’ নামের জৈব সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি অবস্থানগত ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই কারখানা স্থাপন করছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত) লঙ্ঘন করে পরিবেশ দূষণ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার ক্ষতিসাধন করা হয়েছে বা হচ্ছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

নোটিশে আরও বলা হয়- পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ না করে অবৈধভাবে জৈব সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কারখানা নির্মাণ করে পরিবেশ দূষণ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার ক্ষতিসাধনের কারণে কেন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না-তার ব্যাখ্যা দিতে হবে।

নোটিশে পরিবেশ অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে- বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং সংশ্লিষ্ট পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালার বিধান অনুযায়ী এ নোটিশ জারি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে-পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া একটি জৈব সার উৎপাদনকারী কারখানা কীভাবে স্থাপনের পর্যায়ে গেল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে এতদিন নির্মাণকাজ চলল কীভাবে? পরিবেশ অধিদপ্তরের নোটিশের পর এখন কারখানাটির বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটিই দেখার বিষয়।

নোটিশের অনুলিপি অবগতির জন্য হবিগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তরের সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং অভিযোগকারী মো. আলফু আহমেদসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের এই পদক্ষেপে স্পষ্ট হয়েছে- ছাড়পত্র ছাড়াই শিল্পকারখানা স্থাপন ও পরিবেশের ক্ষতি করার অভিযোগকে আর হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। এখন সংশ্লিষ্টরা নোটিশের জবাবে কী ব্যাখ্যা দেন এবং পরিবেশ অধিদপ্তর পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নেয়—তার ওপরই নির্ভর করছে কারখানাটির ভবিষ্যৎ।

পরিবেশ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক হরিপদ দাশ কারণ দর্শানোর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন- কমার্শিয়াল স্যাপার্স প্রতিষ্ঠানটি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। যে কারণে মালিকপক্ষকে সাতদিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির নির্মাণকাজও বন্ধ করতে বলা হয়েছে।
এর আগে গত ১ মার্চ সরেজমিন পরিদর্শন শেষে পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়- পরিবেশগত ছাড়পত্র ব্যতীত কমার্শিয়াল স্যাপার্স নামক জৈব সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কারখানা স্থাপন করে পরিবেশ দূষণ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার ক্ষতি করা হচ্ছে। যে কারণে ইমরানুল কবীর নামে ব্যক্তিকে সাত কর্ম দিবসের মধ্যে কারণ ব্যাখ্যার জন্য নোটিশ প্রদান ও কারখানা নির্মাণের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছিল।

এর ভিত্তিতে গত ১৯ মার্চ ইমরানুল কবীর হবিগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক হরিপদ চন্দ্র দাশের কাছে একটি মুচলেকা দিয়েছিলেন। যাতে তিনি বলেছিলেন- চলতি বছরের মে মাসের মধ্যে কমার্শিয়াল স্যাপার্স স্থানান্তর করা হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।

পড়ুন:কালিয়াকৈরে সফিপুরে আনসার-ভিডিপির সংস্কার ও অগ্রযাত্রার দুই বছর পূর্তি

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন