একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে ঘন ঘন লোডশেডিং। দুইয়ের চাপে অতিষ্ঠ মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে অনেকে, ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনেও পড়েছে এর প্রভাব।
প্রচণ্ড গরমে যখন জনজীবন অতিষ্ঠ, ঠিক তখনই ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বেড়েছে দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে
ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকা, আবার বিদ্যুৎ আসার কিছুক্ষণ পরই চলে যাওয়া—এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভ বাড়ছে গ্রাহকদের মধ্যে। গরমের মধ্যে ফ্যান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিশু, বয়স্ক ও শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে অস্বস্তি নিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ও প্রচন্ড গরমে বিদ্যালয়ে কেউ কেউ অসুস্থও হয়ে পড়ছে। বাসাবাড়িতে রাতের লোডশেডিংয়ের কারণে পড়াশোনা ও ঘুম—দুটিই ব্যাহত হচ্ছে।
শুধু শিক্ষা নয়, লোডশেডিংয়ে ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্যও। বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কম্পিউটার ও অনলাইন সেবা, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের। এতে সময়ের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়ছেন অনেকে।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বড়লেখা জোনাল অফিসের আওতায় প্রায় ৯৫ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছেন। এসব গ্রাহককে সেবা দিতে রয়েছে প্রায় ২ হাজার ২০০ কিলোমিটার বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন রয়েছে বিপুল গ্রাহকের চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির বড়লেখা জোনাল অফিসের প্রকৌশলী খন্দকার মোঃ ফিরোজ কবির জানান, বর্তমান প্রচণ্ড গরমে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের চাহিদা অতীতের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কিন্তু সে তুলনায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ বরাদ্দ না পাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটছে। চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ পাওয়ায় লোডশেডিংয়ের মাত্রাটা বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়াতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।
বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সর্বসাধারণের এটিই একমাত্র প্রত্যাশা।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

