সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাদাঘাট (দক্ষিণ) ইউনিয়নের মানিকঠিলা গ্রামে একটি পরিবারকে ঘিরে ভয়, আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার গল্প যেন থামছেই না। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের একটি পক্ষ তাদের সামাজিকভাবে একঘরে করে হামলা, ভয়ভীতি ও হয়রানি চালিয়ে আসছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, ঘটনাগুলো এক-দুই দিনের নয়; বরং দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা বিরোধ এখন আতঙ্কে রূপ নিয়েছে,
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিক আব্দুল ওয়াহাব স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে বহু বছর ধরে মানিকঠিলা গ্রামে বসবাস করছেন। অন্যের জমিতে কাজ করেই চলে তাদের সংসার। আব্দুল ওয়াহাবের অভিযোগ, তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে বারবার তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। কখনো হাঁস-মুরগি অন্যের বাড়িতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে, আবার কখনো গরু সরকারি সড়কের পাশে ঘাস খাওয়ানোকে কেন্দ্র করে বিরোধ তৈরি হয়।
তিনি দাবি করেন, এসব ঘটনার জেরে পাঁচ থেকে ছয়বার তাকে মারধরের শিকার হতে হয়েছে। গভীর রাতে হামলার অভিযোগ পরিবারটির অভিযোগ, কয়েক দিন আগে রাত ১২টা থেকে ১টার মধ্যে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আব্দুল ওয়াহাবের মাথায় আঘাত লাগে। পরে বিচার চাইতে গেলে আবারও মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আব্দুল ওয়াহাব বলেন, “আমি কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধে জড়াইনি। কিন্তু প্রতিবাদ করলেই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়। এখন আমাকে এলাকা ছাড়ার চাপ দেওয়া হচ্ছে।”
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ক্যামেরার সামনে দাবি করেন, পরিবারের এক নারী সদস্যকে একা পেলেই বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হতো। তাদের ভাষ্য, রাতের বেলায় ওই পরিবারের ঘরের চালে ঢিল ছোড়ার ঘটনাও একাধিকবার ঘটেছে। এসব ঘটনায় পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে বলেও তারা জানান।স্থানীয়দের দাবি, একা পেলেই হয়রানি; গভীর রাতে ঘরের চালে ঢিল ছোড়া, নিরাপত্তা চায় পরিবার।
ঘটনার ধারাবাহিকতায় পরিবারের সদস্য সুনিয়া আক্তার (২০) বিশ্বম্ভরপুর থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ১৪ আগস্ট শুক্রবার লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তিনি বলেন, গভীর রাতে ঘর থেকে বের হলে কয়েকজন ব্যক্তি তার মুখ চেপে ধরে টানাহেঁচড়া করেন।
একপর্যায়ে তার পরনের কাপড় টেনে ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং তাকে শ্লীলতাহানির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করেন। তিনি আরও দাবি করেন, চিৎকার করলে তাকে মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
অভিযুক্তের বক্তব্য অভিযোগে নাম থাকা নিজাম উদ্দিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আজিজের বাড়ির পাশেই সুনিয়াদের বাড়ি। আমার বাড়ি অন্য জায়গায়। আমি কেন গিয়ে মারধর করব? তবে ওদের বাড়ির একেবারে পাশে যেহেতু আজিজদের বাড়ি, তাই এমন কোনো ঘটনা হয়ে থাকলে সেটা তাদের বাড়ির আশপাশে ঘটতে পারে। কিন্তু আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।”
এ বিষয়ে বিশ্বম্ভরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি শাহিন মিয়া জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একদিকে পরিবারের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ, অন্যদিকে অভিযুক্তের অস্বীকার—সব মিলিয়ে সীমান্তবর্তী মানিকঠিলা গ্রামের ঘটনাটি এখন আলোচনার কেন্দ্রে। ভুক্তভোগী পরিবার সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে, আর স্থানীয়রাও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের প্রত্যাশা করছেন।
পড়ুন : ফটিকছড়িতে ঝুলন্ত গৃহবধূর লাশ উদ্ধার: শরীরে আঘাতের চিহ্ন


