বিজ্ঞাপন

ছোট ভাই হারিয়ে নিঃস্ব বিএনপি কর্মী সাইফুল এখন মাইক্রোবাস চালক

দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে লড়তে লড়তে আজ পথক্লান্ত এক পরিবার। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ১ নং লতিফাবাদ ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত মো: সাইফুল ইসলাম একসময় সচ্ছল ছিলেন। কিন্তু ছোট ভাইয়ের রাজনৈতিক জীবনের চড়া মূল্য দিতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে এখন মাইক্রোবাসের স্টিয়ারিং ধরে সংসারের চাকা ঘুরিয়ে চলেছেন তিনি।

সাইফুল ইসলামের ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম শামীম ছিলেন রাজপথের লড়াকু সৈনিক। তিনি কেন্দুয়া উপজেলার গণ্ডা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, আঠারো বাড়ি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এবং কেন্দুয়া সরকারি কলেজের সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে যুবদলের নেতৃত্বের দায়িত্বে থাকা শামীমকে গত ৫ই আগস্টের পর একদল সন্ত্রাসী গুম করে। নিখোঁজের ২ মাস ২৭ দিন পর পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।

দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা শামীমের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর গোটা পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে বড় ভাই সাইফুল ইসলামের কাঁধে। বর্তমানে বয়োজ্যেষ্ঠ ও শিশুসহ ১২ সদস্যের বিশাল পরিবারের অন্নসংস্থান করতে গিয়ে চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।

শহীদের স্মৃতি ও পরিবারের এই করুণ পরিণতির কথা ব্যক্ত করতে সাইফুল ইসলামের এখন একটাই চাওয়া—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে মাত্র এক মিনিটের সাক্ষাৎ। তিনি জানান, তাদের এই ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ বিএনপি পরিবারটি শুধু এক মিনিটের জন্য তারেক রহমানের সাথে যোগাযোগ ও সাক্ষাতের আকুতি নিয়ে আজ মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।

সাইফুল ইসলাম অশ্রুসজল চোখে বলেন, আমার ছোট ভাই দলের জন্য জীবন দিয়েছে। আজ ১২ জনের সংসার নিয়ে আমি নিঃস্ব। আমি আর কিছুই চাই না, শুধু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্যারের সামনে দাঁড়িয়ে এক মিনিট আমাদের এই করুন গল্পের কথা বলতে চাই।

রাজনীতির শিকার হয়ে স্বজন হারানো এবং জীবিকার কঠোর সংগ্রামে লিপ্ত এই পরিবারের আকুতি কি পৌঁছাবে তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে? আজ সেই উত্তরই খুঁজছে পুরো এলাকাবাসী।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানসিক হতাশায় চা-বিক্রেতার আত্মহত্যা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন