সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া তুচ্ছ বিরোধ একদিনের ব্যবধানে রূপ নিলো রক্তাক্ত হত্যাকাণ্ডে। প্রতিপক্ষের সশস্ত্র হামলায় আল আমিন (৩৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার বালিয়াঘাট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আল আমিন ওই গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে গ্রামের শিশুদের ফুটবল খেলার সময় আল আমিনের ভাগনের পায়ে প্রতিপক্ষ আব্দুল লতিফের ছেলের মারা বল আঘাত করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আল আমিনের ভাগনে ওই শিশুটিকে চড় মারে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিশুটি বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে রাতেই বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যে স্থানীয় বাজারে গেলে আল আমিনের ছোট ভাই জুয়েল মিয়াকে মারধরের অভিযোগ ওঠে পরিবারের অভিযোগ, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আল আমিনের বাড়ির সামনে এসে গালিগালাজ শুরু করে। আল আমিন প্রতিবাদ জানাতে বাইরে বের হলে হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে পড়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের ভাই জুয়েল মিয়া বলেন, আব্দুর নুর, আব্দুল লতিফ, আব্দুল কুদ্দুসসহ ১৫-২০ জন পরিকল্পিতভাবে তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে রামদা দিয়ে তার ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। “আমরা এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ আহমেদ জানান, হাসপাতালে আনার আগেই আল আমিনের মৃত্যু হয়েছে। তার মাথা ও শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হামলায় আহত আরও কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ জানান, হাসপাতাল থেকে মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।
পড়ুন : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানসিক হতাশায় চা-বিক্রেতার আত্মহত্যা


