বিজ্ঞাপন

ঝিনাইদহে ৬ মাস ধরে বুক সমান কাদায় বেঁধে রাখা সেই চার মহিষ ইউএনও’র হস্তক্ষেপে উদ্ধার

ঝিনাইদহের মহেশপুরে বুক সমান কাদায় বেঁধে রাখা সেই ৪টি মহিষ উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। রোববার (১৬ আগস্ট) সামাজিক মাধ্যমে পশুগুলোর ভিডিও প্রকাশ হলে বিষয়টি নজরে আসে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেনের।

আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে ইউএনওর হস্তক্ষেপে মহিষগুলোকে উদ্ধার করে শুকনো ও নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তর করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার স্বরূপপুর ইউনিয়নের গোকুলনগর গ্রামে আব্দুল আলীম ৬ মাস ধরে বুক সমান কাদায় ৪টি মহিষ বেঁধে রেখেছিলেন। মহিশগুলোকে কাদাপানির মধ্যেই খাবার দেয়া হতো। বুক সমান কাদার ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকতো মহিষগুলো। অবলা পশুগুলোর সাথে এমন অমানবিক আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এমন অস্বাভাবিক ও কষ্টকর পরিবেশে থাকার কারণে মহিষগুলোর অবস্থা দিনদিন খারাপের দিকে যাচ্ছিল। মহিষগুলোকে কাদা থেকে তুলে শুকনা ও নিরাপদ স্থানে রাখার অনুরোধ করলেও মহিষের মালিক আব্দুল আলীম কারও কথা শোনেনি।

পরে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা কাদায় আটকে থাকা মহিষগুলোর দুর্দশার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে। ভিডিওটি মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেনের নজরে এলে তিনি মহিষগুলো উদ্ধারের উদ্যোগ নেন।

স্থানীয় পশুপ্রেমী নাজমুল হোসেন বলেন, প্রাণীরা মানুষের মতো নিজেদের কষ্টের কথা বলতে পারে না। কিন্তু তাদেরও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। ৪টি মহিষকে দীর্ঘদিন ধরে বুকসমান কাদার মধ্যে আটকে রাখার দৃশ্য সত্যিই হৃদয়বিদারক।

আব্দুল আলীমের বৃদ্ধা মা সত্যা খাতুন বলেন, ছেলেকে একাধিকবার বলেছি মহিষগুলোকে ভালো স্থানে রাখতে কিন্তু সে কারো কোন কথাই শুনত না। মহিষগুলোকে কাঁদাপানিযুক্ত স্থানে বেঁধে রাখত। সব সময় ওখানেই খেতে দিত।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবাই আলীমকে বলতো মহিষগুলোকে শুকনা জায়গায় রাখতে। একথা শুনলেই আব্দুল আলীম তাদের ওপর চড়াও হতো ও বকাঝকা করত সবাইকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মহিষগুলোকে উদ্ধার করে শুকনা স্থানে রাখার হয়েছে। মহিষের মালিককে ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মহিষগুলোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা, শুকনা মেঝে, খাবার-পানি এবং নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ফেরদৌস স্টিলে ৯ প্রাণহানি : জাহাজের ট্যাংকে বিষাক্ত গ্যাসের রহস্য খুঁজতে তদন্ত দল

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন