বিজ্ঞাপন

কালিয়াকৈরে অটোরিকশা আটক, চালকের মৃত্যুকে ঘিরে পরিবারের অভিযোগ

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে হাইওয়ে পুলিশের হাতে অটোরিকশা আটকের পর চালক আলম হোসেন (৪৬) অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তার পরিবার।

বিজ্ঞাপন

তবে হাইওয়ে পুলিশের দাবি, মহাসড়কে উল্টো পথে যাত্রী পরিবহনের অভিযোগে অটোরিকশাটি আইন অনুযায়ী আটক করা হয়েছিল চালকের মৃত্যুর সঙ্গে অটোরিকশা আটকের কোনো সম্পর্ক নেই।

নিহত আলম হোসেন উপজেলার মাঝুখান এলাকার ফজলুল হকের ছেলে। তিনি অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

পরিবারের দাবি, বুধবার (১৯ আগস্ট) চন্দ্রা থেকে ওয়ালটন কারখানার দিকে যাওয়ার পথে নাওজোড় হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা আলমের অটোরিকশাটি থামিয়ে আটক করেন এতে থাকা যাত্রীদের নামিয়ে দেন।

পরে অটোরিকশাটি নিয়ে যাওয়ার সময় আলম সেটি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান।

পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে সফিপুর মডার্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা পরে তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান।

নিহতের চাচাতো ভাই তোফাজ্জল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আলমের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ছিল অটোরিকশাটি। সেটি আটক করার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন অসুস্থ হয়ে মারা যান।

পরিবারের অভিযোগ, অটোরিকশাটি আটক করার সময় নাওজোড় হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল করিম সেখানে দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

তবে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা-ওয়ালটন কারখানা এলাকায় অটোরিকশাটি উল্টো পথে চলছিল। এ কারণে সড়ক নিরাপত্তা ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী সেটি আটক করা হয়।

অটোরিকশা আটকের পর চালক অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আলী বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে কবিরপুর থেকে চন্দ্রার দিকে আসা একটি অটোরিকশা ওয়ালটন কারখানার সামনে আটক করা হয়। এ সময় চালক আলম হোসেন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাইওয়ে পুলিশ গাজীপুর রিজিয়নের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ বলেন, “অটোরিকশাটি মহাসড়কে উল্টো পথে চলছিল। এ কারণে নিয়ম অনুযায়ী সেটি আটক করা হয়। অটোরিকশা আটকের সঙ্গে চালকের মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক নেই।”

রাত ৯ টায় পারিবারিক কবরস্থানে আলম হোসেনের দাফন সম্পন্ন হয়।

পরিবারের অভিযোগ ও পুলিশের বক্তব্যের বিষয়ে ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পড়ুন:অনলাইন জুয়ার এজেন্ট শামীম মেহেরপুরে গ্রেপ্তার

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন