চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমানের নির্দেশক্রমে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোঃ লুৎফর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং ওসি ডিবি মোঃ মজিবুর রহমানের দিকনির্দেশনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে চাঁদপুর জেলা ডিবি পুলিশ।
চাঁদপুর সদর মডেল থানায় দায়েরকৃত সাধারণ ডায়েরি এবং বিভিন্ন ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অনুসন্ধান চালিয়ে প্রতারক চক্রটির সন্ধান পায় চাঁদপুর জেলা পুলিশ। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতারক চক্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন ফেসবুক পেইজে ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করে সাধারণ ক্রেতাদের প্রলুব্ধ করত। পরবর্তীতে পণ্য সরবরাহের কথা বলে বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করে প্রতারণা করত।
এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ আনছার উল্লাহ (এলআইসি শাখা, চাঁদপুর) ও এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ জিয়াউল হক জিয়া’র সমন্বয়ে গঠিত চাঁদপুর জেলা ডিবি পুলিশের একটি আভিযানিক দল নড়াইল জেলার কালিয়া থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে আরো অংশগ্রহণ করেন এলআইসি শাখার এএসআই (নিরস্ত্র) মোঃ ইলিয়াছ শাহ, ডিবির এএসআই (নিরস্ত্র) জহির উদ্দিন, মোঃ বোরহান উদ্দিন এবং রুবেল বড়ুয়া।
অভিযানের অংশ হিসেবে ২০ আগস্ট ২০২৬খ্রিঃ রাতে নড়াইল জেলার কালিয়া থানাধীন পুরুলিয়া ইউনিয়নের নোয়াগ্রাম এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে, মোঃ হাবিবুর রহমান, সাজিদ , হেদায়েত হুজুর (৪১)-কে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে একই তারিখ রাতে কালিয়া থানাধীন পুরুলিয়া ইউনিয়নের চাঁদপুর মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মোঃ রকিবুল হাসান নয়ন @ রাব্বী @ রাব্বী শরীফ (৩৬)-কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের হেফাজত থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ০৫টি মোবাইল ফোন, সিমকার্ড এবং নগদ ৬০,০০০/- (ষাট হাজার) টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন ও অন্যান্য আলামত প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা এবং তাদের সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে পরস্পর যোগসাজশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির নামে প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আসছিল। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে, তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত দুইজনসহ পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ ও পেনাল কোড অনুযায়ী নিয়মিত মামলা রুজু করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

