টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে মোটা বালুর ব্যবসার অন্তরালে অবৈধভাবে ড্রেজিং, চর কেটে এবং স্তূপ করে রাখা বালু অবৈধভাবে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এতে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। অভিযোগ রয়েছে বৈষম্য বিরোধী হত্যা মামলার আসামী সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ১০নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস সাত্তার ও স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক চক্র সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রশাসনের ছত্রছায়ায় এ বালু বিক্রির মহোৎসব চলছে। কয়েক দফায় উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করা হলেও অদৃশ্য শক্তির বলে একদিন পর হতেই পুনরায় চালু হয় এসব বালু মহল। স্থানীয়রা দ্রুতই বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি করেন। বালু মহল নিয়ে ৩ পর্বের ধারাবাহিক নিউজ করেছেন টাঙ্গাইল প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল নোমান। আজ রয়েছে এর প্রথম পর্ব।
আ.লীগের বালুর ঘাট এখন বিএনপি’র দখলে
যমুনা নদীর বালু স্থানীয়দের কাছে সাদাসোনা হিসেবে খ্যাত। বিগত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শাসনামলে ভূঞাপুরের নিকরাইল ও গোবিন্দাসী ইউনিয়নে অবৈধ বালুঘাট ছিল ১৯টি। এসব বালুঘাট সিরাজগঞ্জের বালুমহালের ঠিকাদার আব্দুস সাত্তার, ভূঞাপুর উপজেলা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মাসুদুল হক মাসুদসহ প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ নিয়ন্ত্রণ করতেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এসব বালুর ঘাট নিয়ন্ত্রণ নেয় সিরাজগঞ্জের বালুমহালের ঠিকাদার সাত্তার কমিশনারের সহাতায় উপজেলায় ‘চার খলিফা’ নামে খ্যাত ‘চার খলিফা’ খ্যাত ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান তালুকদার সেলু, কোষাধ্যক্ষ সোলায়মান হোসেন লিটন, নিকরাইল ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন মন্ডল। বর্তমানে ভূঞাপুর উপজেলায় অন্তত ৪০টি অবৈধ বালুঘাট সচল রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বালুর ঘাট সচল রয়েছে সারপলশিয়া, পলশিয়া, সিরাজকান্দি, ল্যাংড়া বাজার, পাটিতাপাড়া, মাটিকাটা, চিতুলিয়াপাড়ায়।
বর্তমানে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিরাজগঞ্জ থেকে বাল্কহেডের মাধ্যমে মোটাবালুর আনলোডের আড়ালে ড্রেজিং এর মাধ্যমেও বালু উত্তোলন চলছে। স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রীয়তা ও নগদ টাকার প্রলোভনে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখেও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ওইসব বালুঘাটের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে বলেও জানিয়েছে একাধিক সূত্র।
হুমকিতে যমুনা সেতু ও রেল সেতু
অবৈধভাবে বালু উত্তোলন সচল থাকায় দেশের বৃহত্তর স্থাপনা যমুনা সেতুর পূর্ব পাড় এবং রেল সেতৃ এলাকা হুমকির মুখে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় টাঙ্গাইল যমুনা সেতু এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে বার বার নিষেধ করা সত্বেও সেতুর পূর্বপাড়ে যমুনা সেনানিবাস সীমানার উত্তরপাশে কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে গাইড বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়াসহ হুমকির মুখে পড়েছে যমুনা সেতু ও রেল সেতু।
যমুনা সেতুর নিচ দিয়ে বাল্কহেড চলাচল অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ (ওহষধহফ ঝযরঢ়ঢ়রহম ঙৎফরহধহপব, ১৯৭৬) এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০২৩) এর অধীনে সম্পূর্ণ অবৈধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ও কেপিআই (কচও) অবকাঠামো হওয়ায় সেতু কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (ইওডঞঅ) ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। কিন্ত নৌপুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ এসব বাল্কহেড চলাচলের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান করার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে পরিচালনা করছে না।
যমুনা সেতু ও রেল সেতুতে বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কা
বিগত সময়ে যমুনা সেতুতে পিলারের সঙ্গে ধাক্কায় বালুবোঝাই বাল্কহেড ধাক্কা ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও ২০২৩ সালে যমুনা রেল সেতুর নির্মাণাধীন সময়ে বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কা লাছে। এতে বাল্কহেডটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যমুনা নদীতে তলিয়ে গেছে। পরে বাল্কহেডে থাকা ৬ জন সাঁতরিয়ে পাড়ে উঠে জীবন বাঁচায়।
দেশের আইন অনুযায়ী ব্রিজের নিচ দিয়ে বালুবাহী বাল্কহেড দিয়ে যাওয়ার অনুমতি নেই। কিন্ত সেতুর নিচ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দেড়শ’ থেকে দুইশ চলাচল করছে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এদিকে গত ৪ মে নিকরাইল ইউনিয়নের পলশিয়া পর্যন্ত অভিযান চালায় প্রশাসন। অভিযানে নিকরাইল ইউনিয়ন যুবদলের নেতা মতিনকে এক বছরের কারাদন্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে আটটি এস্কাভেটর মেশিন ও তিনটি ট্রাক জব্দ করা হয়। অভিযান পরিচালনাকারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাজিব হোসেন অভিযানের মাত্র কয়েকদিনের মাথায় বদলি ভূঞাপুর উপজেলায় বির্তক জন্ম দেয়। সমলাচনার ঝড় উঠে উপজেলাবাসীদের মধ্যে।
কয়েক দফায় সরেজমিনে দেখা যায়, নিকরাইল ইউনিয়নের নিকরাইল, মাটিকাটা, সিরাজকান্দী, জিগাতলা এলাকায় এবং গোবিন্দাসী ইউনিয়নে একাধিক বালুঘাট রয়েছে। যমুনা নদীতে বৈদ্যুতিক টাওয়ার স্থাপনের জন্য ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে উত্তোলিত বালু কয়েকটি পয়েন্টে কোটি টাকার মূল্যে সরকারি বালু স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এ বালুর পাশেই বাল্কহেডের মাধ্যমে আনলোড করা মোটাবালুর সাথেই স্তূপ করেই সরকারি বালু লুটের মহোসৎব চলছে। এছাড়া ড্রেজারের মাধ্যমেও যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলন করতে দেয়া যায়। বালু উত্তোলনের পাশেই একাধিক বাল্কহেড দেখা যায়।
অভিযোগ উঠেছে, যমুনা তীরে এসব বালুর নিয়ন্ত্রণে ভূঞাপুরের ‘চার খলিফা’ হিসেবে পরিচিত বিএনপি নেতারা। এছাড়াও সিনিয়র সহ-সভাপতি ফরহাদুল ইসলাম শাপলা, নিকরাইল ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন মন্ডলের ছোট ভাই বিএনপি নেতা আলম মন্ডল, ইউনিয়ন তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক মো. হাসমত প্রামানিক, উপজেলা বিএনপি’র প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সরকার শরীফ, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক রাজিব হোসেন তালুকদার কফিল, মোহসিন তালুকদার দিপু, মো. আসলাম মেম্বার এবং সিরাজগঞ্জের বালুমহালের ঠিকাদার সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস সাত্তারের তত্ত্বাবধানে প্রতিদিন শতশত ট্রাকযোগে ওই বালু লুট করে বিক্রি করা হচ্ছে।
জানা যায়, এর আগে বড়পুকুরিয়া বগুড়া-কালিয়াকৈর পর্যন্ত ৪০০ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন প্রকল্পের (২য় সংশোধিত)’ আওতায় যমুনা রিভার ক্রসিং অংশে টাওয়ারে ষ্টীল টিউবুলার পাইল ফাউন্ডেশন কাজের লাইন নির্মাণ করছে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিঃ (পিজিসিবি)। বড়পুকুরিয়া-বগুড়া অংশে কাজের জন্য ভারতীয় প্রতিষ্ঠান টাটা প্রজেক্টস লিঃ -কে টার্নকী ঠিকাদার নিয়োগ দেয় পিজিসিবি। গত ২৫ নভেম্বর ২০২১ পিজিসিবি’র প্রধান কার্যালয়ে এজন্য দু’পক্ষের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। পরবর্তীতে বগুড়া-কালিয়াকৈর অংশে কাজ পায় কামানি ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন (কেইসি) এবং যমুনা নদীর অংশে কাজ পায় ট্রানসিল ও ইনোভেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (আইটিডি) জয়েন ব্যঞ্চার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। যমুনা রেলসেতুর উত্তর পাশ দিয়ে বৈদ্যুতিক তারের টাওয়ার স্থাপনের জন্য ড্রেজিংয়ের কাজ করে বসুন্ধরা গ্রুপ ও সিরাজগঞ্জের আব্দুস ছাত্তার। নিয়ম অনুযায়ী, ড্রেজিংয়ের বালু পরবতীতে নদীতে ফেলার কথা থাকলেও নদীর পাড়ে কয়েকটি স্থানে স্তূপ করে রাখা হয়। প্রতিনিয়ত এ সরকারী সম্পদ লুট হলেও এ সম্পদ রক্ষায় যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা থাকলেও তা নেয়া হয়নি।
বালুর ঘাট নিয়ে সংঘর্ষ
ভূঞাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যমুনা নদীর বালুঘাট দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও প্রভাবশালী গ্রুপগুলোর মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা হয়েছে। এসময় বেশ কয়েকজন আহত হয়। এর মধ্যে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে উপজেলার পুনর্বাসন এলাকার বাগানবাড়িতে বালুঘাটের আধিপত্য নিয়ে বিএনপি’র দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা হয়। যাতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ল্যাংড়া বাজার ও পুনর্বাসন এলাকায় বালুমহালের দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলের দুটি পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হন।
বালু মহল আইন
২০২৩ সালে সংশোধিত বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) আইন, অনুযায়ী ব্যক্তি মালিকানাধীন উর্বর কৃষি জমি বা উপরিভাগের মাটি এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিবেশের ক্ষতি করে এমন স্থানে বালু বা মাটি উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে নিজ বাড়ির ভিটার কাজের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে সীমিত পরিসরে মাটি তোলা যাবে। এর মধ্যে সেতু, বাঁধ, সড়ক, রেললাইন বা অন্যান্য জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে বালু বা মাটি তোলা বেআইনি। তবে এসব আইনের তোয়াক্কা না করেই চলে বালু উত্তোলনের মহোৎসব।
সিরাজগঞ্জে থেকে বাল্কহেডের মাধ্যমে ফেলা হচ্ছে বালু
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্তমানে সিরাজগঞ্জে থেকে বাল্কহেডের মাধ্যমে মোটাবালু আনলোড (ফেলা হচ্ছে) করা হচ্ছে। সারা বছরই এখান থেকে বালু উত্তোলন হয়ে থাকে। এরই ফাঁকে এই যমুনা নদী থেকেই বালু ড্রেজিং করে একই জায়গায় বালু ফেলে। এর আগে একই সিন্ডিকেটরা বৈদ্যুতিক তারের টাওয়ার স্থাপনের জন্য ড্রেজিং করে ষ্টীলের পিলার বসানোর কারণে উত্তোলনকৃত বালু নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বাঁধ তৈরি করে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আগে দিনে ও রাতের আঁধারে সেই বালু লুট করে বিক্রি করা হয়। আর এ সব কাজ করছে সিরাজগঞ্জের ছাত্তার কমিশনারের নেত্বত্বে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক একটি চক্র। প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তর ‘ম্যানেজ’ করেই চলছে এ বালু বিক্রির মহাৎসব। আর সব অর্থের যোগানদাতা সিরাজগঞ্জের আব্দুস ছাত্তার। প্রতি ঘনফুট বালুর জন্য ৬০ পয়সা করে নেন বলে শুনেছি। ২০২১ সাল থেকে যমুনা নদীর ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে এই আব্দুস সাত্তার চক্র। যে সব স্থানে বালু রাখা হয়েছে সেসব জমির মালিককে প্রতি শতাংশ জমিতে এক হাজার থেকে এক হাজার ৫শ’ টাকা করে ভাড়া দিয়েছে জমি মালিকরা। আগে তারা রাতে বালু বিক্রি করলেও এখন সারা দিন রাত বালু বিক্রি করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হুমায়ুন তালুকদার বলেন, প্রায় দেড় মাস ধরে সিরাজগঞ্জ থেকে বাল্কহেডের মাধ্যমে মোটাবালু ফেলা হচ্ছে। মোটাবালুর আড়ালে সরকারি বালুও বিক্রি হয়। এসব বালুর সিন্ডিকেটের প্রধান হলেন সিরাজগঞ্জের সাত্তার কমিশনার। আমাদের এখানকার জমিগুলো বালু জন্য ভাড়া দেয়া হয়েছে। প্রতি শতাংশ ১৫শ’ টাকা করে দেয়া হয়।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস সাত্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে যায়। এক পর্যায়ে তিনি উল্টো প্রশ্ন করেন আপনি কিসের সাংবাদিক।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান তালুকদার সেলু বলেন, আমার কোন বালুর ঘাট নেই। তবে আমি সিরাজগঞ্জের সাত্তারের সাথে বালুর ব্যবসা করি।
এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ফরহাদুল ইসলাম শাপলা বলেন, বালুর মহলের সাথে আমি জড়িত নই। তবে বিএনপি’র অন্য ৪ নেতা বালু মহলের সাথে জড়িত। আমি রাজনীতি করি, অন্য কোন পেশায় জড়িত নই।
এ প্রসঙ্গে নিকরাইল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন মন্ডল সরাসরি কথা বলতে চান।
নিকরাইল ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি এ বালু ব্যবসার সাথে জড়িত নেই। কে বা কারা মালিকানা তা বলতে পারবো না।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব হাসান বলেন, উনারা কোথায় বালু ফেলছেন এবং কাগজপত্র আছে কি না তা যাচাই করে বলা যাবে। গোবিন্দাসী এবং নিকরাইলে প্রায় দীর্ঘ ৩০-৪০ বছর ধরে তারা ব্যবসা পরিচালনা করছে। এর বৈধতা রয়েছে কি না তা ‘স্টার্ডি’ ছাড়া বলা খুবই কঠিন। আমরা কোন বালু মহলের সাথে জড়িত নই বলে তিনি জানান।
ভূঞাপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আব্দুল কালাম আজাদ বলেন, বাল্কহেডের বৈধতা আছে কি না, তা কাগজপত্র নিয়ে দেখতে হবে। তবে নিয়ম মোতাবেক তাদের নিষেধ করা হয়। নিষেধ করার পরেও কেনো চলছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার আরো অফিসার রয়েছে তার সাথে কথা বলে জানাচ্ছি।
পরবর্তীতে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাদের দায়িত্ব ভাগ করা রয়েছে। যাদের কাগজপত্র নেই তাদের বিরুদ্ধে আমরা মাঝে-মধ্যে ব্যবস্থা নেই। কথার এক পর্যায়ে তিনি ফোন কেটে দেন। পরে তাকে ফোন দিয়ে আর পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহবুব বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। আমরা উপজেলা প্রশাসনকে বলেছি দ্রুত যেনো এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।
সিরাজগঞ্জের আব্দুস ছাত্তারের টাঙ্গাইলের বালু উত্তোলন কিংবা ফেলার কোন বৈধতা আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের এ পাশে কাউকে বালু উত্তোলনের কোন প্রকার লাইনন্সে কিংবা অনুমতি কাউকে দেয়নি। প্রতিনিয়তই আমাদের অভিযান চলছে। আমাদের অভিযানের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিবো।
এ প্রসঙ্গে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, অবৈধভাবে বাল্কহেড চলাচল করলে রাতের বেলায় অনেক সময় সেতুতে আঘাত করে। ব্রিজের বাল্কহেড লৌঙ্গর করলে সেনাবাহিনী দেখে, বাকিটুকু নৌ পুলিশ দেখে থাকে। ব্রিজে বাল্কহেড আঘাত করলে সেতুর জন্য ক্ষতি। বড় ধরনের আঘাত করলেও সেতু যাতে সহন করতে পারে এমনভাবে বানানো। তবে বারবার আঘাত হানলে বড় যে কোন ধরনের দুর্ঘটনা হতে পারে। এতে এক পর্যায়ে সেতু ঝুকিপূর্ণ রয়েছে।
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, সিরাজগঞ্জে ৫টি বালু মহলে ইজারা দেয়া হয়েছে। তাদের স্থান নির্ধারিত করা আছে। বালু মহলের নিধারিত জায়গার বাইরে হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নদীর কূল থেকে ৫০ মিটার দূরে যদি কেউ বালু তোলে তার অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব নৌ পুলিশের।
যমুনা সেতুর নিচ দিয়ে বাল্কহেড চলাচল নিষিদ্ধ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা বালু মহলের ইজারা নিয়েছে তারা তো বাল্কহেডেই বালু তুলে নিয়ে যাবে, তাহলে কি ঘাড়ে করে বালু নিয়ে যাবে ভাই? কোন আইনে চলাচল নিষিদ্ধ তিনি তা পাঠাতে বলেন।
পড়ুন: জ্বালানি সংকট সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই, সমাধানে সময় লাগবে: অর্থমন্ত্রী
আর/


