বিজ্ঞাপন

বরেন্দ্র অঞ্চলে জলবায়ুসহনশীল বৃক্ষরোপন ও বীজপনের উদ্ধোধন

খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চল, রাজশাহীতে জলবায়ু সহনশীল ও স্থানীয় বিভিন্ন প্রাণবেচিত্র্যের খাদ্য নিরাপত্তায় বৃক্ষরোপন ও বীজ বপন উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশ সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপন কর্মসূচী সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বরেন্দ্র অঞ্চল তথা রাজশাহীসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাতে ১০ লক্ষ দেশি প্রজাতির ফলজ,বনজ এবং ঔষধী বৃক্ষের বীজ বপনের লক্ষ্যে রাজশাহীর তানোর উপজেলার তালন্দ গ্রামের ২ কিলোমিটার রাস্তায় তাল বীজ বপন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক, গ্রিন কোয়ালিশন এবং তালন্দ আনন্দমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের যৌথ আয়োজনে বৃক্ষরোপন ও বীজ বপনের উদ্বোধন করেন জাতীয় কৃষিপদক প্রাপ্ত স্বশিক্ষিত কৃষি গবেষক ও গ্রিন কোয়ালিশন তানোর উপজেলার আহবায়ক কৃষক নুর মোহাম্মদ। এসময় বৃক্ষরোপনে উপস্থিত ছিলেন- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সহকারী শিক্ষক মৃনাল কুমার পাল, মনিরা খাতুন, জয়ন্তী রানীসহ স্কুলটির সকল শিক্ষক ও প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী।

দুপুরে স্কুল ছুটির পর শিক্ষক শিক্ষার্থী , এলাকার কৃষক-কৃষাণী, গ্রিন কোয়ালিশনের সদস্যরা মিলে তালন্দ গ্রামের দুই কিলোমিটার রাস্তার দুই ধারে দুই হ্জাার তাল বীজ, একহাজার দেশি বড়ই বীজ, পাঁচশত নিম বীজ, তেঁতুল বীজ একশত, দেশি খেজুর দুইশত , কাঠালে বীজ একশত পঞ্চাশ এবং প্রায় চারশত জামের বীজ বপন করা হয়।

উদ্বোধনী পর্বে জাতীয় কৃষিপদক প্রাপ্ত স্বশিক্ষিত কৃষি গবেষক ও গ্রিন কোয়ালিশন তানোর উপজেলার আহবায়ক কৃষক নুর মোহাম্মদ বলেন- “ বরেন্দ্র অঞ্চলে আগে অনেক তাল খেজুরের গাছ ছিলো, এই গাছগুলো বর্জ্যপাতরোধী এবং পরিবেশবান্ধব, এই গাছগুলোতে নানা ধরনের পাখি বাসা বাঁধতো, বিশেষ করে বাবুই পাখির বাসা বেশি বাধতো।” তিনি আরো বলেন- দেশি গাছ কমে যাওয়ায় পাখিসহ মানুষের খাদ্যবৈচিত্র্য যেমন কমেছে তেমিনি আমাদের পাখিদের বাসাবাধার জায়গাও কমে গেছে। জাতীয় কুষি পদক প্রাপ্ত এই কৃষক বরেন্দ্র অঞ্চলে তাল খেজুর গাছ কাটা বন্ধেরর দাবি জানান।

তালন্দ আনন্দমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মৃনাল কুমার পাল বলেন- “গাছ থাকলে পরিবেশ ভালো থাকে, কিন্তু গাছ কমে যাবার কারনে বরেন্দ্র অঞ্চলে তাপমাত্রা বেড়েছে এবং বৃষ্টিপাতও কমেছে আগের তুলনায়।” তিনি আরো দাবি করেন- বরেন্দ্র অঞ্চলে বড় বড় বা শতবছরী বৃক্ষগুলো সুরক্ষা করা দরকার সরকারের পক্ষ থেকে।

বারসিকের নৃবিজ্ঞানী ও আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বলেন- “বাংলাদেশের বিভিন্ন কৃষিপ্রতিবেশ অঞ্চলে বিভিন্ন জাতের বৃক্ষবৈচিত্র্যও বিদ্যমান, সেই বৃক্ষ এবং প্রাণবেচিত্র্যের মধ্যে দিয়েই সেই অঞ্চলের খাদ্য এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য গড়ে ওঠে এবং টেকসই হয়, কিন্তু এইসকল বৈচিত্র্য কমে গেলে পরিবেশ এবং বাস্তুসংস্থানিকসহ নানা ধরনের সংকট তৈরী হয়।” তিনি বরেন্দ্র অঞ্চল কেন্দ্রিক ভৌগোলিকতা গুরুত্ব দিয়ে সরকারসহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৃক্ষরোপন কার্যক্রমের দাবি জানান। যাতে বিদেশী আগ্রাসী বৃক্ষরোপন বা বীজ বপন না করা হয়।

বীজবপন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার(কৃষি) অমৃত কুমার সরকার, সহযোগী প্রোগ্রাম অফিসার উত্তম কুমার সরকার, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমানসহ প্রমূখ।

পড়ুন :

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন