বরগুনার তালতলীতে বয়স জালিয়াতি করে এক যুগ ধরে গ্রাম পুলিশের চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে মোঃ জাফর নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এঘটনায় একাধিকবার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও নেওয়া হয়নি আইনগত ব্যবস্থা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে (হেলেঞ্চা বাড়িয়া গ্রাম) ‘গ্রাম পুলিশ’ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন মোঃ জাফর। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী গ্রাম পুলিশ পদে নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ২০ থেকে ৩০ বছর। তবে ২০১৪ সালে নিয়োগের সময় তার বয়স ছিল ৩৫ বছর ১১ মাস ৭ দিন। অর্থাৎ চাকুরীর নির্ধারিত বয়সসীমা পার হওয়ার প্রায় ছয় বছর পর তিনি জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সরকারি নীতিমালা অমান্য করে এই চাকুরীতে যোগদান করেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০০৮ সালে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন মোঃ জাফর। সে সময় তাঁর অফিসিয়াল নথিতে জন্ম তারিখ ছিল ২৭ মে ১৯৭৮ এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল পঞ্চম শ্রেণী। তবে চাকুরীতে যোগদানের দুই বছর পর ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে তিনি চাকুরীর বয়স বৈধ করার উদ্দেশ্যে এনআইডিতে নিজের নাম ও শিক্ষাগত যোগ্যতা অপরিবর্তিত রেখে জন্ম তারিখ বদলে ৪ মে ১৯৮৪ সাল করার আবেদন করেন এবং তথ্য সংশোধন করে নেন। অথচ তার ছোট ভাই মোঃ মাইনুদ্দিনের এনআইডিতে জন্ম তারিখ ০১ মার্চ ১৯৮২ সাল অপরিবর্তিত রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত তার এনআইডির তথ্য সংশোধন করার জন্য আবেদন করেননি।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বিধিমালা অমান্য করে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হলেও অদৃশ্য ক্ষমতার বলে তিনি এখনও গ্রাম পুলিশ পদে বহাল রয়েছেন। এ ঘটনায় বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থী নোমান হোসেন একাধিকবার উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থী নোমান হোসেন বলেন, “জাফর ভাই বয়সের তথ্য গোপন ও এনআইডি জালিয়াতি করে অবৈধভাবে চাকরিটি হাতিয়ে নিয়েছেন। যোগ্য ও সঠিক বয়সের প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও আমি চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমি একাধিকবার প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানিয়েও কোনো বিচার পাইনি। অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাঁর জালিয়াতি চিহ্নিত করে চাকরিচ্যুত করা এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
এবিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ জাফর বলেন, “আমি চাকুরী করতেছি, বেতন-ভাতা সবকিছুই ঠিকমতো তুলতেছি। আমাদের পরিবারের সকলের বয়স পরিবর্তন করে কাগজপত্র জমা দেওয়া আছে। এছাড়া আমার কিছু বলার নেই।
এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে অবগত হলাম। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে খুব শিগগিরই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পড়ুন : হিমবাহ ধস, নাকি উষ্ণতার প্রভাব? নেপালের ভয়াবহ বন্যার নেপথ্যে কী
সা/


