চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পুলিশের সঙ্গে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের গুলিবিনিময়ের ঘটনায় কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও হত্যা মামলার আসামি মোবারক হোসেন ওরফে কালা মোবারকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় চারটি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ওসিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোররাতে উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর পল্লানপাড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ জানায়, পাহাড়তলী এলাকায় গত ১৩ জুন সংঘটিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের শনাক্ত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ফটিকছড়ির শাহনগর এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মোবারক ও তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়। এতে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ, ফটিকছড়ি থানার ওসি মো. রবিউল আলম খান এবং তিন কনস্টেবল আহত হন।
পরে ঘটনাস্থল থেকে মোবারকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন—মোহাম্মদ রাইহান ওরফে রায়হান (৪০), মো. ফরিদ (৫০) ও মো. নাছির (৫২)।
পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার মোবারক পাহাড়তলীর মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত হওয়া আসামি। তার বিরুদ্ধে ফটিকছড়ি ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় একাধিক হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযানে একটি ৯ এমএম বিদেশি পিস্তল, একটি ৭.৬৫ এমএম বিদেশি পিস্তল, একটি বিদেশি রিভলবার ও একটি দেশীয় পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ৯ এমএম ও ৭.৬৫ এমএম পিস্তলের গুলি, তিনটি ম্যাগাজিন এবং বিভিন্ন ধরনের গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, উদ্ধার হওয়া ৯ এমএম পিস্তলটি ব্রাজিলের তৈরি এবং প্রাথমিকভাবে এটি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার লুট হওয়া সরকারি অস্ত্র বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পড়ুন:বগুড়ায় গ্রামীণ পর্যটন উন্নয়ন বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত
ইমি/


