বিজ্ঞাপন

‎পিরোজপুরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও ঝাড়ু মিছিল

পিরোজপুর সদর উপজেলার ১৩২ নম্বর মধ্য কালিকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মোসাম্মাৎ জানাতুল ফেরদৌসের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও ঝাড়ু মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের কালিকাঠীতে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ স্থানীয়রা অংশ নেন।

‎মানববন্ধনে বক্তারা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারী আচরণ, অনিয়ম, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত করার অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করানো, প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করা এবং প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।

‎অভিভাবক তাসলিমা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং তার কাছে প্রাইভেট পড়ার জন্য শিক্ষার্থীদের চাপ দেওয়া হয়। তার কাছে প্রাইভেট না পড়লে টিফিন না দেওয়া এবং পরীক্ষায় সমস্যায় ফেলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। এছাড়া উপবৃত্তির টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তাসলিমা।

‎আরেক অভিভাবক অভিযোগ করেন, ছোট শিশুদের ভুলের জন্য তাদের বুঝিয়ে না বলে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের পরিবর্তে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের ওই শিক্ষিকার কাছেই বাধ্যতামূলকভাবে প্রাইভেট পড়তে চাপ দেওয়া হয় এবং অন্য শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়লে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

‎পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাহাত খান অভিযোগ করে বলে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন এবং তাদের দিয়ে বিভিন্ন কাজ করান। এছাড়া তার কাছে বাধ্যতামূলকভাবে প্রাইভেট পড়তে বলা হয় এবং অন্য শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়লে ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করে সে।

‎তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মোসাম্মাৎ জানাতুল ফেরদৌস। তিনি বলেন, “এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।”

‎উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম মোল্যা বলেন, “মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, স্থানীয় কমিউনিটির লোকজন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছেন। বিষয়টি জানতে আমি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষিকার কিছু ভুলত্রুটি হয়ে থাকতে পারে। তবে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে সেটিকে সত্য হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগ লিখিতভাবে পাওয়া গেলে তা তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন:বগুড়ায় গ্রামীণ পর্যটন উন্নয়ন বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন