কুয়েতের আল-সালমি এলাকায় একটি খামারে অগ্নিকাণ্ডের পর এক ব্যক্তির দগ্ধ মরদেহ উদ্ধারের রহস্য উদঘাটন করেছে সেদেশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনাজনিত অগ্নিকাণ্ড মনে হলেও, এটি ছিল মূলত একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। বাকবিতণ্ডার জেরে এক সৌদি নাগরিককে কাঠের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার পর আলামত নষ্ট করতে লাশে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কুয়েতের আল-জাহরা গভর্নরেটের অপরাধ তদন্ত বিভাগ আল-সালমি এলাকার একটি খামারে আগুন লাগা ও এক ব্যক্তির প্রাণহানির খবর পায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পোড়া স্থানটি তল্লাশি করে একটি দগ্ধ লাশ উদ্ধার করে। তবে তদন্তকারীদের সন্দেহ জাগে যখন তারা নিহত ব্যক্তির গাড়ির ভেতরে রক্তের দাগ দেখতে পান। এতে বিষয়টি যে স্বাভাবিক অগ্নিকাণ্ড নয়, বরং আগুন লাগানোর আগেই তাকে হত্যা করা হয়েছে এমন আলামত স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের মুখে অভিযুক্ত বাংলাদেশি প্রবাসী স্বীকার করেন যে, নিহতের সাথে কথা-কাটাকাটির জেরে তিনি তাকে কাঠের লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। আহত অবস্থায় তাকে খামারের পশুখাদ্য রাখার স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং অপরাধ ঢাকতে পুরো স্থানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া সে গাড়ির রক্তের দাগ মোছা এবং নিহতের কিছু জিনিসপত্র ফেলে দিয়ে তথ্যপ্রমাণ ধ্বংসের চেষ্টা করেছিলো বলে স্বীকার করেছেন।
বর্তমানে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পড়ুন:বালাসী-বাহাদুরাবাদ সেতুর দাবীতে ১৩ দিনে ৯ জেলা পেরিয়ে যশোরে বাবা-ছেলে
ইমি/


