বিজ্ঞাপন

বাহাদুর শাহ্ পার্কে ‘নজরুল বর্ষের’ বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার চেতনায় নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার আহ্বানের মধ্য দিয়ে রাজধানীর ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ্ পার্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতা। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও দর্শনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতে ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।

সোমবার সকাল ১০টায় বাহাদুর শাহ্ পার্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম শুধু জাতীয় কবি নন, তিনি চেতনা, সাম্য ও মানবতার কবি। অন্যায়, শোষণ ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে তাঁর লেখনী ছিল প্রতিবাদের শক্তিশালী হাতিয়ার।

মন্ত্রী বলেন, নজরুলের সাহিত্য ও দর্শন নতুন প্রজন্মকে অসাম্প্রদায়িক, দেশপ্রেমিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে অনুপ্রাণিত করে। তাই নজরুলকে শুধু পাঠ্যবই কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাঁর আদর্শকে তরুণ প্রজন্মের জীবনচর্চার অংশ করে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, নজরুলের চেতনাকে শুধু সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না; তাঁর সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার আদর্শ সমাজ ও ব্যক্তিজীবনে ধারণ করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আজ কে বিজয়ী হলো, সেটি বড় কথা নয়। এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা হলো, শিক্ষার্থীরা নজরুলের সাহিত্য, দর্শন ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে এবং তাঁর চেতনাকে নিজেদের মধ্যে ধারণ করার সুযোগ পাচ্ছে।’

ঢাকা জেলা প্রশাসনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা, ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর সভাপতি হেলাল খান।

অনুষ্ঠানে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী পর্ব শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কবিতা আবৃত্তি, নজরুলসংগীত এবং নজরুলের সাহিত্যভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। আয়োজকরা জানান, ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে আয়োজিত এ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার অন্যতম লক্ষ্য হলো জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও জীবনদর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং তাঁদের মধ্যে সাম্য, মানবতা, দেশপ্রেম ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ ঘটানো।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : কার্টুন, পাপেট শো দিয়ে শেষ হলো ‘মুস্তাফা মনোয়ার শিশু নাট্যোৎসব’

-বিজ্ঞাপন-
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন