আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার ঐতিহাসিক দারুল হাদিস মিলনায়তনে আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি, জামিয়ার সাবেক সদরে মুহতামিম, শায়খুল হাদিস ও প্রধান মুফতি, পীরে কামেল হযরত মাওলানা মুফতি হাফেজ আহমাদুল্লাহ সাহেব (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর মাগফেরাত কামনা, স্মৃতিচারণ, মর্সিয়া পাঠ এবং তাঁর স্বরচিত জীবনীগ্রন্থ ‘হায়াতে আহমদী’ ও ‘মরাসী’ স্মারকগ্রন্থের শুভ মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে মাদ্রাসার শিক্ষা ভবনের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শানে রচিত আরবী, উর্দু ও বাংলা ভাষার রচিত শেয়ার ও কবিতা আবৃত্তি করেন জামিয়ার বিভিন্ন জামায়াতের ছাত্র ও আগত শুভাকাঙ্ক্ষীগণ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশের সভাপতি এবং আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার সম্মানীত মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস সানি আল্লামা মুফতি একরাম হোসাইন অদুদী।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে জামিয়ার শীর্ষস্থানীয় আসাতেযায়ে কেরাম ও দায়িত্বশীলবৃন্দ উপস্থিত থেকে মরহুমের বর্ণাঢ্য কর্মময়, ইলমি ও আধ্যাত্মিক জীবনের নানা দিক তুলে ধরে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন।
উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার শিক্ষা পরিচালক হযরত মাওলানা মুফতি জসিম উদ্দিন, সিনিয়র মুহাদ্দিস ও প্রধান, মুশাওয়ারা বিভাগ হযরত মাওলানা আব্দুল জলিল, মুহাদ্দিস হযরত মাওলানা জাফর সাদেক, তাজবিদ ও কিরাত বিভাগের প্রধান হযরত মাওলানা ক্বারী আব্দুস সামাদ, সিনিয়র শিক্ষক হযরত মাওলানা ইউনুছ রমজ, হযরত মাওলানা নুরুল আবছার, সিনিয়র শিক্ষক ও সহকারী নাজেম শুবায়ে মুশাআরা বিভাগ হযরত মাওলানা সরওয়ার কামাল রাগেব প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা মরহুম আল্লামা মুফতি হাফেজ আহমাদুল্লাহ (রহ.)-এর অসামান্য ইলমি খিদমত, ফিকহি প্রজ্ঞা ও তাকওয়াপূর্ণ জীবনের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
বক্তারা বলেন, আল্লামা মুফতি হাফেজ আহমদ উল্লাহ (রহ.) ছিলেন উপমহাদেশের একজন প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন, দূরদর্শী ফকিহ, প্রবীণ শায়খুল হাদিস ও উচ্চমানের আধ্যাত্মিক সাধক। তিনি জামিয়া জিরি, দারুল উলুম করাচি, জামিয়া আশরাফিয়া লাহোর ও খাইরুল মাদারিস মুলতানের মতো শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠে অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে শিক্ষা শেষ করে ১৯৯১ সালে আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ায় সরাসরি প্রধান মুফতি ও শায়খুল হাদিস হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। হাদিস শাস্ত্রে মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ সন্দ্বীপি (রহ.)-এর মাধ্যমে সরাসরি শায়খুল হিন্দ মাহমুদ হাসান দেওবন্দি (রহ.) পর্যন্ত পৌঁছানো তাঁর বিরল উচ্চমানের সনদ ছিল উপমহাদেশের দ্বীনি অঙ্গনে এক অমূল্য সম্পদ। কর্মজীবনে তিনি পটিয়া মাদ্রাসার সদরে মুহতামিম এবং আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশের সভাপতির গুরুদায়িত্ব পালন করেন এবং আধ্যাত্মিক জগতে তিনি ছিলেন হযরত হাফেজ্জী হুজুর (রহ.)-এর অন্যতম খলিফা। প্রখর মেধা, সূক্ষ্ম ফিকহি জ্ঞান, কঠোর নিয়মাবর্তিতা ও সুন্নাতের অনুসরনের জন্য সর্বজনশ্রদ্ধেয় এই মহান মনীষী তাঁর স্বরচিত গ্রন্থ ‘হায়াতে আহমদী’ সহ অজস্র ইলমি খিদমত ও যোগ্য শাগরেদ রেখে ইন্তেকাল করেন।
পড়ুন:হরিরামপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন
ইমি/


