দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও বিনিয়োগবান্ধব করতে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।
তিনি বলেন, আগামী ২০ বছরে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) কারিগরি সহায়তায় সরকার যে ৮০ বিলিয়ন ডলারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে, সেখানে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসায়ীদের চাহিদা, মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।
ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম চেম্বার ও এডিবির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট (আইজিএনডি)’ শীর্ষক অংশীজন পরামর্শ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আমিরুল হক বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা আরও গতিশীল করতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি ভূ-কৌশলগত ঝুঁকি বিবেচনায় উপকূলীয় অঞ্চল দিয়ে চট্টগ্রাম-নোয়াখালী-চাঁদপুর-নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা বিকল্প সড়ক নির্মাণ করা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে একাধিক বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকা জরুরি।
তিনি বলেন, শুধু সড়ক নয়, রেল ও নৌপথকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে মাল্টিমোডাল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনাল প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি সোনাদিয়া-মহেশখালী-চট্টগ্রাম বন্দর-মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলকে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক করিডোরে রূপান্তরের মাধ্যমে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব।
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে কার্গো হাবে পরিণত করার ওপরও গুরুত্ব দেন চেম্বার সভাপতি। তিনি বলেন, দুবাইয়ের শারজাহ বিমানবন্দরের আদলে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে একটি আধুনিক কার্গো হাবে পরিণত করা যেতে পারে। এ জন্য ঢাকা বিমানবন্দরের তুলনায় চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের ট্যারিফ কমিয়ে এর ব্যবহার আরও বাড়াতে হবে।
এ ছাড়া বড় অবকাঠামো প্রকল্পে দেশীয় শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও বিদেশি কোম্পানির যৌথ বিনিয়োগ নিশ্চিত করা এবং শিল্প-কারখানার চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় এডিবির বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ তাহসিন এইচ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ উন্নয়নই বেসরকারি খাতের মাধ্যমে হচ্ছে। সরকার বগুড়া-ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজারকে যুক্ত করে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তুলতে চায়। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারি ও বেসরকারি খাত যৌথভাবে কাজ করবে।
তিনি বলেন, আইজিএনডি প্রকল্পের মাধ্যমে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্যই বেসরকারি খাতের চাহিদা ও মতামত জানতে অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ করা হচ্ছে। এসব মতামতের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে যোগাযোগ ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে।
তাহসিন এইচ চৌধুরী আরও জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে অর্থায়নের জন্য এডিবির কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সভায় ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, শিল্পায়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ইউটিলিটি সুবিধা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী উপযুক্ত শিল্প স্থাপন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশীয় বেসরকারি খাতকেও যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।
তারা মাল্টিমোডাল যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু, সরকারি নীতি ও পলিসির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, কক্সবাজারে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলা এবং পেপারলেস ও ফেসলেস কাস্টমস ও বন্দর ব্যবস্থাসহ সরকারি সেবা সহজ ও আধুনিক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় চেম্বারের সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. গোলাম সরওয়ার, বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মো. রফিক চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের সহ-সভাপতি এ. এম. মাহবুব চৌধুরী, বিকেএমইএর পরিচালক আহমেদ নূর ফয়সাল, চেম্বারের সাবেক পরিচালক রাহবার এ আনোয়ার ও প্রকৌশলী ইফতেখার হোসেন, চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী, ওয়েস্টার্ন মেরিনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন সোহেল হাসানসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী নেতারা বক্তব্য দেন।
এ সময় চেম্বারের পরিচালক কামাল মোস্তফা চৌধুরী, আমান উল্লা আল ছগির (চুটু), আসাদ ইফতেখার এবং এডিবির বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ আবেদ খানসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন : প্লাস্টিক পানির বোতল দিয়ে ‘শখের বাড়ি’ নির্মাণ করেছে নির্মাণ শ্রমিক


