নিজের মেয়ে তাহিয়াকে পানিতে ডুবে হারানোর বেদনা আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন শফিউল আলম। সেই শোককে শক্তিতে পরিণত করে মেয়ের স্মৃতিতে প্রতিষ্ঠা করেছেন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ‘তাহিয়া একাডেমী’। এর মাধ্যমে শিশুদের সাঁতার প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ করছেন তিনি।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকাল ১০টায় সুনামগঞ্জের পুরাতন লক্ষণশ্রী জামে মসজিদের পুকুরে শিশুদের সাঁতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকার শিশু ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
শফিউল আলম বলেন, সাঁতার শেখানোর শুরুতেই শিশুদের পানির ভয় কাটিয়ে আত্মবিশ্বাসী করা হয়। এরপর পানিতে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া ও ধাপে ধাপে সাঁতারের বিভিন্ন কৌশল শেখানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রায় দুই বছর আগে তার মেয়ে তাহিয়া পানিতে ডুবে মারা যায়। মেয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে একাডেমীটি প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। আমৃত্যু শিশুদের সাঁতার শেখানোর পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কাজ করে যেতে চান।
শফিউল আলম আরও বলেন, হাওরাঞ্চলে সাঁতার না জানার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। আগে হাওরপাড়ের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে পানির সম্পর্ক বেশি থাকলেও বর্তমানে আধুনিক সুবিধার কারণে শিশুরা আগের মতো পানিতে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। তাই হাওর ও শহরের শিশুদের সাঁতার শেখানো সময়ের দাবি।
শাহজালাল রহমাতুল্লাহি আলাই নূরানীয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আমিরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের সাঁতার শেখানোর জন্য তাদের এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু রোধে দুর্ঘটনার পর উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি আগে থেকেই শিশুদের সাঁতার শেখানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
পড়ুন : দিনাজপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের চেক বিতরণ


