বাংলার ঐতিহ্যবাহী পণ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম গামছা। আর এই গামছা তৈরির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র সিরাজগঞ্জ। দীর্ঘদিন ধরে জেলার দক্ষ তাঁতিদের হাত ধরে নানা রং ও নকশার গামছা তৈরি হয়ে আসছে। দেশের বাজারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সিরাজগঞ্জে তৈরি গামছা এখন বিদেশের বাজারেও যাচ্ছে।
গামছা তৈরির শুরু হয় তুলা থেকে তৈরি সুতা সংগ্রহের মাধ্যমে। প্রথমে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সুতা ভাঙানো ও প্রস্তুত করা হয়। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট রঙে রাঙানো হয় সুতাগুলো। রং করার পর সেগুলো শুকিয়ে নেওয়া হয়।
শুকিয়ে নেওয়া সুতার পরবর্তী ধাপে শুরু হয় গামছা তৈরির মূল কাজ। প্রথমে সুতা ‘পারি’ করা হয়। এরপর ‘তেনা করানো’ শেষে সেগুলো ‘সানায়’ তোলা হয়। সানায় তোলা সুতা বও করে তাঁতে নেওয়া হয়। এরপর দক্ষ তাঁতিদের হাতে শুরু হয় গামছা বোনার কাজ।
তাঁতের খটখট শব্দের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিশ্রম ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে ধীরে ধীরে তৈরি হয় কাঙ্ক্ষিত গামছা। গামছার নকশা ও মান ঠিক রাখতে প্রতিটি ধাপেই তাঁতিদের নিখুঁতভাবে বুনন করতে হয়।
বুনন সম্পন্ন হওয়ার পর গামছা নেওয়া হয় ক্যালেন্ডার মেশিনে। সেখানে প্রেস ও ফিনিশিংয়ের কাজ শেষ করে গামছার মান যাচাই করা হয়। সবশেষে আকর্ষণীয়ভাবে প্যাকেজিং করে দেশের বিভিন্ন জেলার বাজারে পাঠানো হয়।
তাঁতশিল্পের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই দেশজুড়ে পরিচিত সিরাজগঞ্জ। জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনও রয়েছে অসংখ্য তাঁত কারখানা। এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ।
বিশেষ করে কামারখন্দ উপজেলার পাইকোশা এলাকা, পাচিলিয়া বাজার, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি, উল্লাপাড়া এবং বেলকুচির চন্দনগাতী, তামাই ও আজগড়া গ্রামের তাঁত কারখানাগুলোতে প্রতিদিন ব্যস্ত সময় কাটান তাঁতিরা।
আধুনিকতার প্রভাবে অনেক ঐতিহ্যবাহী শিল্পে পরিবর্তন এলেও সিরাজগঞ্জের গামছা এখনও তার স্বকীয়তা ধরে রেখেছে। দক্ষ তাঁতিদের নিপুণ বুনন, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও কঠোর পরিশ্রমে টিকে রয়েছে বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী পণ্য।
পড়ুন: নেপালে সুড়ঙ্গে আর কেউ বেঁচে নেই, উদ্ধারকাজ শেষ
আর/


