বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে ক্ষোভে বলেছেন, যখন ফ্যাসিস্ট সরকার ছিলো, তখন এখানে একজন প্রতিমন্ত্রীও ছিলো, সে সময় মেডিকেল কলেজ হয়েছে এবং ৫শ বেডের হাসপাতালের টেন্ডারও হয়েছিলো, কিন্তু সেই প্রতিমন্ত্রী এবং ঠিকাদারের মধ্যে যোগসূত্র ঠিকমত হয়নি বিধায় কাজ বন্ধ ছিলো। ফলে ইতিমধ্যে যে ৫শ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হতো, শুধুমাত্র তাদের মধ্যে কিছু বিনিময় হয়নি বলেই কাজ বন্ধ করে রেখেছিলো। কতটা মানবেতর, কতটা নিকৃষ্ট মানুষ হলে এই ধরনের কাজ করতে পারে আমার জানা নেই। ফ্যাসিস্টের যে চিত্র তা এই হাসপাতালে এসে দেখতে পারেন। মন্ত্রী আরো বলেন, এমন হাসপাতাল আমি কখনো পরিদর্শন করিনি, জামালপুরের মানুষ হিসেবে দূর্ভাগ্য, হয় হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের গাফলতি, নয়তো তারা বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের গাফলতি এখনো টানছেন। শনিবার বিকালে জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বিমান মন্ত্রী আরো বলেন, বিগত সরকারের সময়ে অনেকগুলো বিদ্যুৎ প্লান্ট করা হয়েছে, এসব কিভাবে চলবে, এর কার্যক্রম সচল রাখতে যে ধরনের ব্যবস্থাপনা থাকতে হয় কিছুই তারা করেনি, কিন্তু এগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে কিভাবে চলবে তারও কোন প্রস্তুতি তারা নেয়নি।
তিনি বলেন, অন্তবর্তীকালীন সরকারও ঠিকভাবে কাজ করেনি, বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যেটা দিয়ে গ্যাস সরবরাহ করা হয়, সেটিও তারা বাতিল করে গেছে। সেটি বাতিল না করলেও বিদ্যুতের সমস্যা কিছুটা হলেও কম হতো। ইতিমধ্যেই আমাদের প্রধানমন্ত্রী একটি সেল তৈরি করে দ্রুত সময়ের মধ্যে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ তড়িৎ গতিতে করার নির্দেশনা দিয়েছেন। কারন এলএনজি আনা তো যায়, কিন্তু টার্মিনাল না থাকলে নামাবো কোথায়? আমাদের দেশনা এমন ভঙ্গুর অবস্থায় রেখে গেছে, মনে হয় এই দেশটাকে ধ্বংস করার জন্যই বিগত সরকার ছিলো এবং এই ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশটা উদ্ধারের জন্য আল্লাহ আমাদের সহযোগিতা করেছে। আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ সকল সমস্যা আমারা সমাধান করতে পারবো।
জামালপুর জানারেল হাসপাতাল পরিদর্শনকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত ছাড়াও এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী ও জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক, জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা: আজিজুল হক, জামালপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা: মাফজুর রহমান সোহান প্রমুখ।
পড়ুন : তিস্তার পেটে শতাধিক বাড়িঘর, হুমকির মুখে দুই শতাধিক


