বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সংবাদ প্রকাশ: সেই সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় সমবায় ও যুব উন্নয়ন সমিতির নামে পরিচালিত কার্যক্রমে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ ওঠার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। সাবমার্সিবল পাম্প বিতরণ ও ঋণ কার্যক্রমে বিস্তর অসংগতির খবর নাগরিক ডটকম অনলাইন পোর্টালে “লোকসানি সমিতির ‘ভুতুড়ে’ তহবিল: লাখ টাকার পাম্প এলো কোথা থেকে?” শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর, ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা সমবায় কার্যালয়।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নেত্রকোনা জেলা সমবায় কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, দুই সদস্যের কমিটি গঠন করে আজ সকালে তাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন এবং তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে তিনি তদন্ত কমিটর দুই সদস্যের নাম বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এর আগে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে কলমাকান্দার নাজিরপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকায় তিনটি সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংগঠনগুলো হলো- ‘রামপুর-কুবরীকান্দা যুব উন্নয়ন সমিতি’, ‘কুবরীকান্দা আদর্শ শ্রমজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড’ এবং ‘রামপুর-কুবরীকান্দা যুব উন্নয়ন কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড’। স্থানীয় সূত্র ও সাধারণ সদস্যদের অভিযোগ, একই কার্যালয় থেকে পরিচালিত এই তিনটি সংগঠনেরই নেতৃত্বে রয়েছেন নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি এবং তদারকির অভাবে এগুলো যেন ‘একক সিদ্ধান্তে’ পরিচালিত হচ্ছে।

সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ ওঠে সম্প্রতি সাবমার্সিবল পাম্প বিতরণের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে। জানা যায়, একটি পাম্প পাওয়ার জন্য জনপ্রতি আনুষঙ্গিক খরচসহ ১২ হাজার ২২৫ টাকা করে জমা নেওয়া হয়। কাগজে-কলমে ৩০০ ফুট গভীরতার পাম্প স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, বাস্তবে মাত্র ১৮০ থেকে ২৫০ ফুট গভীরতায় পাম্প বসানো হয়েছে।

এক ভুক্তভোগীর তথ্যমতে, ৩০ জন সদস্য টাকা জমা দিলেও পাম্প পেয়েছেন মাত্র ছয়জন এবং বাকিদের বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারছেন না সংগঠনের কাণ্ডারি নজরুল ইসলাম।

পাম্প কেনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নিয়ম মানা হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। লাখ লাখ টাকার পাম্প কেনার ক্ষেত্রে কোনো দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান করা হয়নি এবং এর কোনো রশিদ, ভাউচার বা সরবরাহকারীর চালানও দেখাতে পারেননি নজরুল ইসলাম। অর্থের উৎস সম্পর্কে তিনি (নজরুল) দাবি করেছিলেন, সংগঠনের কল্যাণ তহবিলের ৩০ লাখ টাকা থেকে ১৮ লাখ টাকা দিয়ে পাম্পগুলো কেনা হয়েছে।

তবে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ফেরদৌস আলম ভূঁইয়া জানান, বিগত অডিটে সংগঠনটি লোকসানে থাকায় সেখানে কল্যাণ তহবিলে অর্থ জমার কোনো সুযোগই নেই।

এছাড়া, নজরুল ইসলাম যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে ১৭ লাখ টাকা ঋণ পাওয়ার যে দাবি করেছিলেন, তা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন কলমাকান্দা উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাদের দপ্তর থেকে এ ধরনের কোনো ঋণ দেওয়া হয় না এবং ওই সমিতির বাস্তবে কোনো কার্যক্রম নেই।

জেলা সমবায় কার্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের মতে, আয় না থাকলে বা বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) অনুমোদন ছাড়া সদস্যদের শেয়ার বা সঞ্চয়ের মূলধন ভেঙে এ ধরনের ব্যয়ের কোনো আইনি সুযোগ সমবায় নীতিমালায় নেই।

তদারকি সংস্থাগুলোর নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কীভাবে এমন কার্যক্রম চলছিল, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন তুলে আসছিলেন ভুক্তভোগীরা। প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করায় এখন নতুন করে আশার আলো দেখছেন সাধারণ সদস্যরা। তারা আশা করছেন, তদন্তের মাধ্যমেই তাদের কষ্টার্জিত অর্থের সঠিক হিসাব ও প্রতিশ্রুত সুবিধার বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধান বেরিয়ে আসবে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : সিরাজগঞ্জে আন্তজেলা চোরচক্রের ৮ সদস্যসহ ৯৪টি মোবাইল উদ্ধার

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন