ফটিকছড়িতে গৃহবধূ নেহা হত্যা: স্বামীসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি

0
9
বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে গৃহবধূ সামিয়া হাকিম নেহার মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী মারুফ পারভেজসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফটিকছড়িতে নিহত নেহার গ্রামের বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তাঁর মা রুপা আক্তার। তাঁর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহতের জেঠাতো ভাই লাভলু।

লিখিত বক্তব্যে রুপা আক্তার অভিযোগ করেন, গত ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর নেহা তাঁকে ফোন করে বিমর্ষ অবস্থায় কথা বলেন। পরে রাতে নেহার পাঠানো একটি ভয়েস বার্তায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে ‘মা, আমাকে আজকে মেরে ফেলবে’—এমন কথা জানান। খবর পেয়ে তিনি মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে ছুটে যান। পরে নেহাকে নাজিরহাট হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পরিবারের দাবি, নেহা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রচার করা হলেও ঘটনাস্থলে আত্মহত্যার বিষয়ে স্পষ্ট আলামত পাওয়া যায়নি। তাঁর গলা ও থুতনির নিচে লালচে ক্ষত এবং গলায় নখের আঁচড়ের দাগ ছিল বলেও দাবি করেন পরিবারের সদস্যরা।

পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা হিসেবে নিলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে রুপা আক্তার আরও অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই নেহার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। বিয়ের সময় প্রায় ১৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হলেও পরবর্তীতে ওয়াশিং মেশিন ও টাকা দাবি করা হয়। স্বামীকে ব্যবসার জন্য দুই লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে বিরোধের পর নেহার ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ছাড়া নেহার স্বামীর অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল এবং এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় নেহাকে মারধর করা হতো বলেও অভিযোগ করেন তাঁর মা। নেহার মৃত্যুর আগে পাঠানো বার্তা ও লিখে যাওয়া একটি চিরকুটে নির্যাতনের বিভিন্ন তথ্য রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

নিহতের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর সময় নেহা তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ঘটনার পর তাঁর স্বামী মারুফ পারভেজ পালিয়ে যান এবং এখনো তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে দাবি পরিবারের।

এ অবস্থায় ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নেহার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং স্বামী মারুফ পারভেজসহ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান নিহতের মা রুপা আক্তার।

এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে। তবে মামলাটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার পরিবর্তে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ হিসেবেও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করার দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার।

পড়ুন : সিলেট সীমান্তে ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকার চোরাচালানের মালামাল জব্দ

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.