গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চাপাইর ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় বনাঞ্চল থেকে লোকালয়ে শিয়াল চলে আসায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গত তিন দিনে শিয়ালের কামড়ে শিশুসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
একই সঙ্গে কয়েকটি গবাদিপশুকেও শিয়ালে কামড় দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ধুলিগড়া, পামওয়েল বাজার ও গন্দেকচালা এলাকায় দিনের বিভিন্ন সময়ে শিয়ালের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। এতে বাজার, মসজিদ ও প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে বের হওয়ার সময় অনেকে নিরাপত্তার জন্য হাতে লাঠি রাখছেন। শিক্ষার্থীরাও বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সময় আতঙ্কে রয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
রোববার সকালে পামওয়েল বাজার এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাজারে আসা অনেক মানুষের হাতে লাঠি রয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে শিয়ালের উপদ্রব নিয়ে উদ্বেগ লক্ষ্য করা যায়। তারা জানান, বনের ভেতর ও আশপাশের এলাকায় একসঙ্গে দুই-তিনটি শিয়াল চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। মানুষের উপস্থিতি টের পেলে কখনো কখনো শিয়াল তেড়ে এসে কামড় দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে তাদের অভিযোগ।
স্থানীয়দের দাবি, গত তিন দিনে শিয়ালের কামড়ে আহত হয়েছেন আছিয়া (৩৫), দুখিল মাতবর (৬৫), দ্বীন ইসলাম (১২), মফিজ মাস্টার (৪০), শারমিন (৩৫), আলমাস (৩৮), আলী হোসেন (৩৫), মিম (৫), হরিদাসী (৬০)সহ অন্তত ২৫ জন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
শিয়ালের কামড়ে আহত আলমাস হোসেন বলেন, “গরু আনতে বাড়ির নিচে গেলে হঠাৎ দুটি শিয়াল আমাকে আক্রমণ করে। তারা আমাকে ১০ থেকে ১২ বার কামড় দেয়। আমার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এসে আমাকে উদ্ধার করেন।”
স্থানীয় বাসিন্দা রহমত মিয়া, স্বপনা শীল ও জাব্বার বলেন, “বনের ভেতর ও আশপাশ থেকে শিয়াল লোকালয়ে এসে মানুষ ও গবাদিপশুকে কামড় দিচ্ছে। শিশুরা আতঙ্কে রয়েছে। অনেকে একা চলাচল করতে ভয় পাচ্ছেন। বিষয়টির দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।”
চাপাইর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুর নবী বলেন, “দিন যত যাচ্ছে শিয়ালের কামড়ে আহতের সংখ্যাও বাড়ছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।”
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা দিদারুল আহসান বলেন, “বনে খাবারের সংকট দেখা দিলে শিয়াল খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসতে পারে। এতে মানুষ ও গবাদিপশু আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। বন্যপ্রাণী আইনের কারণে শিয়াল নিধন করা যাবে না। তবে শিয়ালগুলো উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভ্যাকসিনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।”
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফখরুল হোসাইন বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়রা দ্রুত শিয়ালের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পড়ুন : মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে না পারলে উন্নয়ন বিফলে যাবে: নেত্রকোনার ডিসি


