বিজ্ঞাপন

উত্তরায় তুলি ট্রাভেলস এজেন্সিতে ঢুকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে থানায় মামলা, গ্রেফতার ১

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর উত্তরায় ‘তুলি ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস’ (Tuli Tours and Travels) নামে একটি ট্রাভেল এজেন্সির অফিসে অনধিকার প্রবেশ করে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে মারধর এবং অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এজাহারনামীয় ৩ জনসহ অজ্ঞাতনামা ৭–৮ জনকে আসামি করে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার এজাহারনামীয় ২ নং আসামী মোঃ আবুল খায়ের গ্রেফতার হলেও ভুক্তভোগীর ভাস্য অনুযায়ী মূল পরিকল্পনাকারী আবুল কালাম আজাদ এখনো রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

মামলার নথি ও এজাহার সূত্রের তথ্যমতে, গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০:৩০ টায় উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত ‘তুলি ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস’-এ এই ঘটনা ঘটে। ট্রাভেল এজেন্সির মালিক মোঃ নজরুল ইসলাম (৫৮) বাদী হয়ে গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলাটি (মামলা নং- ৫) দায়ের করেন।

মামলায় অভিযুক্ত প্রধান আসামিরা হলেন— ১. আবুল কালাম আজাদ (৩৯), পিতা: আব্দুল আলিম শেখ, গ্রাম: বোয়ালিয়া, থানা: শৈলকুপা, জেলা: ঝিনাইদহ (বর্তমানে ফায়দাবাদ, দক্ষিণখান, ঢাকা)। তিনি প্রতিষ্ঠানের সাবেক কর্মচারী ছিলেন। ২.মোঃ আবুল খায়ের @ খাইরুল (৪৩), পিতা: মৃত আবুল. কাশেম, গ্রাম: শাহবাজপুর, থানা: গৌরীপুর, জেলা: ময়মনসিংহ (বর্তমানে পাকুরিয়া বাজার, তুরাগ, ঢাকা)।

৩. স্বপন (৪২), পিতা: অজ্ঞাত, থানা: তুরাগ, জেলা: ঢাকা।

এ ছাড়া ৭ থেকে ৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, ১ নম্বর আসামি আবুল কালাম আজাদ পূর্বে এই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন এবং গত ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। গত ১৯ আগস্ট আসামিরা বেআইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে অফিসে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ও কর্মচারীদের মারধর করতে থাকে।

একপর্যায়ে আসামিরা বাদীকে জোরপূর্বক আটকে রেখে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে ব্যবসা পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে দর-কষাকষির মাধ্যমে আসামিরা নগদ ও বিকাশসহ মোট ৩ লক্ষ ৪৪ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে যায়।

স্থান ত্যাগের আগে আসামিরা অফিসের ১টি সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করে এবং সিসি ক্যামেরার ডিভিআর (DVR) খুলে নিয়ে যায়, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১৯,০০০ টাকা। ঘটনাটি পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে এবং আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করতে গিয়ে মামলা দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করেন বাদী।

উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ পেনাল কোডের ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩৮২/৩৮৫/৩৮৬/৪২৭/৫০৬/১১৪ ধারায় মামলাটি রুজু করেছে। থানার সাব-ইনস্পেক্টর (নিরস্ত্র) মোঃ সাইফুল ইসলামকে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ইনকিলাবকে জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পড়ুন : রাজধানীতে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, আটক ১

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন