অ্যাম্বুলেন্স চালক শফিকুল ইসলামকে মারধর ও হয়রানির ঘটনার বিচারসহ তিন দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন ঠাকুরগাঁওয়ের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকরা। একই সঙ্গে রোগী পরিবহনে দালালি ও হয়রানি বন্ধ এবং হাসপাতালে রোগী সেবায় স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চালকদের জন্য নির্ধারিত ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও সদর অ্যাম্বুলেন্স চালক সমবায় সমিতি লিমিটেডের উদ্যোগে শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামের সামনে এ কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচিতে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকরা বিভিন্ন দাবি সংবলিত ব্যানার নিয়ে অবস্থান নেন। পরে তারা নিজ নিজ অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সমবেত হন। সেখানে সংগঠনের নেতাকর্মীরা জেলা প্রশাসকের কাছে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
সমিতির ব্যানারে উল্লেখ করা তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—অ্যাম্বুলেন্স চালক শফিকুল ইসলামকে মারধর ও হয়রানির ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা, রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রে দালালি ও হয়রানি বন্ধ করা এবং হাসপাতালে রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য সমিতির ৪ টি অ্যাম্বুলেন্স নির্ধারণ করা।
অ্যাম্বুলেন্স চালকদের অভিযোগ, ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের ভেতরে কিছু বহিরাগত অ্যাম্বুলেন্স চালক অবস্থান করে রোগী পরিবহনের কাজে জড়িত রয়েছেন। তাদের দাবি, স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চালকরা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল ও রোগীদের সেবা দিয়ে এলেও বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন চালককে হয়রানি ও অসদাচরণের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
তারা আরও বলেন, অ্যাম্বুলেন্স চালকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জরুরি রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেন। এটি একটি মানবিক ও জরুরি সেবা। তাই পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো ধরনের বাধা বা হয়রানি না করার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।
চালকরা রোগী ও তাদের স্বজনদের কাছ থেকে দালালি এবং অতিরিক্ত হয়রানি বন্ধ করে হাসপাতালে একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এদিকে, বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কারণে জরুরি রোগী পরিবহন ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও সদর অ্যাম্বুলেন্স চালক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সহ-সভাপতি সুধীর দত্ত, সাধারণ সম্পাদক মামুন হোসেন মামুন, সহ-সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পঞ্চ, কোষাধ্যক্ষ বাবুল হোসেনসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতাকর্মী ও সদস্যরা।
অ্যাম্বুলেন্স চালকরা দ্রুত তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তারা।
পড়ুন:সিরাজগঞ্জে চোরাই মালামালসহ ট্রাক জব্দ, গ্রেপ্তার ৫
ইমি/


