ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নে অবস্থিত পূর্ব ওমরাবাজ মোহাম্মদিযা আলিম মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মাদ্রাসার বর্তমান অধ্যক্ষ মাওলানা ওমর ফারুক এবং সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন লোকমানের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় অনাকাঙ্ক্তি সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সর্বশেষ গতকাল (৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) সোমবার সকাল ও বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সোমবার সকালে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদপ্রত্যাশী, সাবেক ওলামা লীগ নেতা এবং বর্তমানে জাহানপুর ইউনিয়ন ওলামা দলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন লোকমান মাদ্রাসায় যান। কমিটি গঠন নিয়ে কথাকাটাকাটি করেন ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ওমর ফারুকের সাথে।
একপর্যায়ে তিনি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ওমর ফারুককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও অপদস্থ করেন। এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে অধ্যক্ষের অনুসারী ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এরই জেরে ওই দিন বিকেলেই পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে অধ্যক্ষের সমর্থক ছাত্র জনতা সংঘবদ্ধ হয়ে শাহাদাত হোসেন লোকমানের ওপর হামলা চালায়। তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় লোকমানকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব ওমরাবাজ মোহাম্মদিযা আলিম মাদ্রাসার নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অধ্যক্ষ ওমর ফারুকের সাথে সাবেক সভাপতি লোকমানের বিরোধ চলছিল। শাহাদাত হোসেন লোকমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে সাথে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করলেও মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মরিয়া ছিলেন। অন্যদিকে, অধ্যক্ষের পক্ষ থেকে নিয়ম মাফিক কমিটি গঠনের চেষ্টা করা হলে দুই পক্ষের মধ্যে এই দ্বন্দ¦ প্রকাশ্য রূপ নেয়, যার জেরে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলো।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে এবং আশেপাশে প্রকাশ্য দিবালোকে এ ধরনের দফায় দফায় সংঘাতের ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিঘ্নিত হচ্ছে মাদ্রাসার স্বাভাবিক পাঠদান ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ।
এই বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ আহম্মদ জানান , মাদ্রাসার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। যেকোনো ধরনের বড় সংঘাত এড়াতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এই ঘটনায় কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে পূর্বওমরাবাজ আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ ওমর ফারুকের হামলায় জড়িত ওলামা দল নেতার বিচারের দাবিতে চরফ্যাশন উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজের কাছে স্মারক লিপি দিয়েছে উপজেলা জমিয়ত। অন্য অধ্যক্ষের বিচারের দাবিতে পাল্টা স্মারক লিপি দিয়েছে উপজেলা ওলামা দল।
উল্লেখ্য, শাহাদাত হোসেন লোকমান একসময় আওয়ামী ওলামালীগের প্রশিক্ষণ সম্পাদক ছিল।ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর হয়ে যান শশিভূষণ থানা ওলাম দলের নেতা।পাশাপাশি প্রভাব খাটিয়ে পূর্বওমরাবাজ মাদ্রাসার সভাপতিও হন।ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষে তাকে ২য়বার সভাপতি না করায় মূলত হামলা, পাল্টা হামলার ঘটনায় ঘটেছে।
পড়ুন : রাজবাড়ীতে অস্ত্র ও গুলিসহ সন্ত্রাসী মঞ্জুসহ গ্রেপ্তার ২


