পাবনা প্রেসক্লাব সম্পাদককে ফাঁসাতে সাজানো ভিডিও, ডিবি ওসির প্রত্যাহারের দাবি সাংবাদিক সমাজের

0
3
বিজ্ঞাপন

​পাবনা প্রেসক্লাবের সম্পাদক জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া বানোয়াট ভিডিও ও অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পাবনায় কর্মরত সাংবাদিকরা। ওই ভিডিওতে বক্তব্য দেওয়া নাফিসা নামের এক তরুণী সংবাদ সম্মেলনে এসে জোরপূর্বক মিথ্যা বক্তব্য নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে ঘটনায় মদদ দেওয়ার অভিযোগে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওসি রাশেদুল ইসলামকে দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

​শনিবার দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতারের সভাপতিত্বে আয়োজিত প্রতিবাদ সভা এবং একই সময়ে তরুণীর নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে পুরো ঘটনার নেপথ্যের চক্রান্ত উন্মোচিত হয়।

​সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী তরুণী নাফিসা দাবি করেন, তিনি স্বেচ্ছায় কোনো বক্তব্য দেননি। সুবর্ণা হালিম নামে এক বিএনপি নেত্রী তাকে জিম্মি করে প্রথমে নিজের বাসায় নিয়ে যান এবং জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের কথা বলতে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে তাকে পাবনা ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। নাফিসার অভিযোগ, ডিবি কার্যালয়ে তার মা-বাবার সামনেই সোহেল রানা বিপ্লব নামে এক ব্যক্তি সাজানো বক্তব্যের ভিডিওটি ধারণ করেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মূল ঘটনা প্রকাশ পেলে নাফিসা তার বক্তব্য অসত্য ও জিম্মি করে চাপ প্রয়োগের ফসল বলে স্বীকার করেন এবং লিখিতভাবে ওই থানায় দেয়া বানোয়াট অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন।

​এদিকে প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় সাংবাদিকরা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিক নামধারী একটি কুচক্রী মহল পাবনা প্রেসক্লাবের বিপরীতে একই নামে সংগঠন খুলে মাদক ব্যবসা, জমি দখল, ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। মূলধারার সংবাদকর্মীরা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চক্রটি কতিপয় অসাধু রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশ কর্মকর্তার সহায়তায় এক তরুণীকে ব্যবহার করে এই সাজানো নাটকের আশ্রয় নেয়।

​সভায় সাংবাদিক নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ডিবির মতো একটি দায়িত্বশীল পুলিশি কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে তরুণীকে জিম্মি করে ভিডিও ধারণের ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি। এ কারণে ডিবি কার্যালয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ সাজানোর দায়ে ডিবি পুলিশের ওসি রাশেদুল ইসলামকে দ্রুত প্রত্যাহারের আলটিমেটাম দেওয়া হয় এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

​প্রেসক্লাবের সাহিত্য সম্পাদক পাভেল মৃধার সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক সম্পাদক আব্দুল মতীন খান, সাবেক সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান, সাবেক সম্পাদক আখিনূর ইসলাম রেমন, সৈকত আফরোজ আসাদ, সাবেক সহসভাপতি মির্জা আজাদ, শহিদুর রহমান, ক্লাব সদস্য জিকে সাদী, রাজিউর রহমান রুমী, রফিকুল ইসলাম সুইট, মাহফুজ আলম, কাজী বাবলা, এমজি বিপ্লব চৌধুরী, রিজভী জয়, মোস্তাফিজ রাসেল, মিজান তানজিল ও পার্থ হাসান প্রমুখ।

পড়ুন : জমি বিরোধে সোনারগাঁয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ১০

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.