মুন্সীগঞ্জ সদরে ব্যবসায়িক বিরোধ ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় এক ব্যবসায়ীকে সালিশ বৈঠকের ভেতরেই পিটিয়ে রক্তাক্ত করার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার উপস্থিতিতে এ হামলার পাশাপাশি ওই ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের ও লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার নয়াগাঁও এলাকায় সাবেক পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিবের বাসভবনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যবসায়ীর নাম মো. বাবুল (৪০)। তিনি পঞ্চসার ইউনিয়নের মালিপাথর (পালপাড়া) এলাকার বাসিন্দা এবং বাবুল এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্বাধিকারী। হামলার পর স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় বাবুল বাদী হয়ে একই এলাকার ব্যবসায়ী আমির হোসেন (৪৫) ও অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে অভিযুক্ত করে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আমির হোসেনের সঙ্গে বাবুলের সুতার ব্যবসা সংক্রান্ত দ্বন্দ চলছে। ভুক্তভোগী বাবুলের দাবি, অভিযুক্ত আমির হোসেন পঞ্চসার এলাকার বিভিন্ন কারেন্ট জাল কারখানা থেকে অবৈধভাবে চাঁদা তুলে আসছেন। তিনি এই চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং আমিরের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বৈরিতা চরম রূপ নেয়।
বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের বাড়িতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে এক সালিশ বৈঠক বসে। অভিযোগ অনুযায়ী, মীমাংসায় না গিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বহিরাগত গুন্ডাবাহিনী ডেকে আনেন আমির। সালিশ চলাকালেই প্রকাশ্যে বাবুলকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন তিনি। একপর্যায়ে কাঠের ডাসা দিয়ে বাবুলের মাথায় সজোড়ে আঘাত করা হলে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। হামলাকারীরা তাঁকে এলাকায় ব্যবসা করতে না দেওয়া এবং বাড়াবাড়ি করলে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আমির হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ঘটনাটিকে ভুল বোঝাবুঝি দাবি করে বলেন, উভয়ের মধ্যে কিছুটা হাতাহাতি হয়েছে। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে বিষয়টি পুনরায় বসে মীমাংসা করে দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, আহত ব্যবসায়ীকে প্রথমে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পড়ুন : ব্রিকস সম্মেলনে যুদ্ধ ও শুল্কের প্রতি নিন্দা প্রকাশ করে যৌথ ঘোষণা


