বিজ্ঞাপন

গোপন সম্পর্ক আর নারীর টিকে থাকার গল্প, ভেনিসে সেরা ‘ওম্যান আননোন’

বিজ্ঞাপন

ইতালির ভেনিসে পর্দা নামল ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের। এবারের আসরে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার ‘গোল্ডেন লায়ন’ জিতে নিয়েছে ড্যানিশ নির্মাতা মে এল-তৌখির সিনেমা ‘ওম্যান আননোন’।  

১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ডেনমার্কের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই ছবির গল্পটি আবর্তিত হয়েছে মেরি নামের এক গৃহকর্মীকে ঘিরে। নিজের ধনী মনিবকে বিয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার মাঝেই মেরির এক গোপন অতীত সামনে আসার উপক্রম হয়। এক জার্মান সেনার সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্ক ছিল, এই সত্যটি জানাজানি হলে ড্যানিশ প্রতিরোধ বাহিনীর হাতে জনসমক্ষে চরম লাঞ্ছনার শিকার হতে হবে তাকে। নিজের সাজানো জীবন ও সম্মান বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ওঠা এক নারীর টিকে থাকার এই গল্পে সমাজের দ্বিচারিতা ও লিঙ্গবৈষম্য নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে। আর এমন শক্তিশালী ও ব্যতিক্রমী গল্প বলার কারণেই ভেনিসের সর্বোচ্চ পুরস্কারটি নিজেদের করে নিয়েছে ছবিটি।

উৎসবের প্রধান প্রতিযোগিতা বিভাগে একমাত্র নারী নির্মাতা হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন মে এল-তৌখি। পুরস্কার হাতে পেয়ে আবেগঘন বক্তৃতায় তিনি নারী নির্মাতাদের সমান সুযোগের অভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন। জুরি প্রেসিডেন্ট ম্যাগি জিলেনহালকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই দারুণ সম্মানের জন্য জুরি বোর্ডকে ধন্যবাদ। বিশেষ করে ম্যাগি, আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে নারী নির্মাতাদের সমান সুযোগের অভাবের বিষয়টি নিয়ে সরব হওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।’ 

ছবিটি নির্মাণ করা আর্থিকভাবে, লজিস্টিক্যালি এবং মানসিকভাবে ভীষণ চ্যালেঞ্জিং ছিল উল্লেখ করে নির্মাতা আরও বলেন, “আমাদের সাধারণ ইতিহাসের সেইসব ‘অচেনা নারীদের’ প্রতি সবার মনোযোগ আকর্ষণ করার তাড়না থেকেই এই সিনেমাটি বানিয়েছি।”

এছাড়াও ‘ওম্যান আননোন’ ছবির জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার ‘ভোলপি কাপ’ জিতে নিয়েছেন মাটিল্ডা আর্সেল। এটি ছিল তার প্রথম কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় এবং কোনো চলচ্চিত্র উৎসবে প্রথম অংশগ্রহণ। পুরস্কার গ্রহণের পর উচ্ছ্বসিত মাটিল্ডা বলেন, ‘এই চলচ্চিত্রে আমার প্রথম লিড রোল, কোনো চলচ্চিত্র উৎসবে প্রথমবার আসা এবং প্রথম কোনো চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া।’

উৎসবের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মান ‘গ্র্যান্ড জুরি প্রাইজ’ জিতেছে দক্ষিণ কোরীয় নির্মাতা লি চ্যাং-ডং-এর সিনেমা ‘পসিবল লাভ’। ভিন্ন সামাজিক শ্রেণির দুই বিবাহিত দম্পতিকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই ড্রামাটি অস্কারে আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম ক্যাটাগরিতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করবে। পুরস্কার গ্রহণকালে মানবসম্পর্কের অবক্ষয় ও শ্রমের পরিবর্তনশীল অর্থ নিয়ে লি বলেন, ‘এমন একটি সময়ে সিনেমার কী করা উচিত এবং কী করতে পারে, সেই প্রশ্ন তুলতেই আমি এই ছবিটি বানিয়েছি।’

সেরা পরিচালকের পুরস্কার ‘সিলভার লায়ন’ জিতেছেন রুশ নির্মাতা ইলিয়া খ্রাজানোভস্কি। তিন ঘণ্টা ১৫ মিনিট দীর্ঘ ‘ডাউ’ নামের এই ছবিটির পেছনে দুই দশক সময় ব্যয় করেছেন তিনি। নির্মাতা এই পুরস্কারটি যুদ্ধে লড়াইরত ইউক্রেনীয়দের এবং নিজের মায়ের প্রতি উৎসর্গ করেন, যিনি নাৎসি বাহিনীর আগমনের ঠিক আগে ইউক্রেনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

গাজা সংঘাত নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘নাজা’ পেয়েছে ‘স্পেশাল জুরি প্রাইজ’। এটি নির্মাণ করেছেন ইসরায়েলি নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল সোর। এর আগে তারা ‘নো আদার ল্যান্ড’ নিয়ে কাজ করেছিলেন। পুরস্কার গ্রহণকালে প্রামাণ্যচিত্রটির সমালোচনা নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি ছবিতে তুলে ধরা বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার ওপর জোর দেন আব্রাহাম।

এবারের আসরে অস্কারজয়ী ব্রিটিশ প্রযোজক জেরেমি থমাসের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়, যিনি ৭৭ বছর বয়সে গত শুক্রবার মারা গেছেন। ১৯৮৮ সালে বের্নার্দো বের্তোলুচ্চির ‘দ্য লাস্ট এম্পেরর’ ছবির জন্য সেরা ছবি হিসেবে একাডেমি পুরস্কার জিতেছিলেন থমাস এবং এই ইতালীয় নির্মাতার সঙ্গে বেশ কয়েকটি প্রজেক্টে কাজ করেছিলেন।

এ বছর উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে জুরি প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে ছিলেন ম্যাগি জিলেনহাল। তার পাশাপাশি জুরি বোর্ডে ছিলেন নির্মাতা কাউথার বেন হানিয়া, হংকংয়ের পরিচালক জনি তো, আফগান নির্মাতা শাহারবানু সাদাত, ফরাসি পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার জাভিয়ের জিয়ান্নোলি, সুরকার ড্যানিয়েল ব্লুমবার্গ এবং ইতালীয় চলচ্চিত্র তাত্ত্বিক ফ্রান্সেসকো ক্যাসেটি।

একনজরে উৎসবের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য পুরস্কারের তালিকা:

সেরা অভিনেতা (ভোলপি কাপ): জন মালকোভিচ (সিনেমা: ওয়াইল্ড হর্স নাইন)

সেরা চিত্রনাট্য: স্তেফানে ব্রিজে, কোরালি আমেদিও এবং অলিভিয়ের গোর্স (সিনেমা: আ গুড লিটল সোলজার)

সেরা নবীন অভিনয়শিল্পী: মালু খেবিজি (সিনেমা: আ প্লেস টু হিল)

সেরা ডেবিউ ফিল্ম: হাউস অব দ্য উইন্ড (নির্মাতা: অগাস্ট বার্নার্ড কুয়েমো ইয়াংহু)

আর্মানি বিউটি অডিয়েন্স অ্যাওয়ার্ড: আই ম্যাটার (নির্মাতা: আলিনা সেরবান)

হরাইজনস বিভাগ:

সেরা সিনেমা: ডায়ান ইন দ্য লুপ (নির্মাতা: অ্যান সিরোট ও রাফায়েল বালবোনি)

সেরা পরিচালক: জ্যাকলিন লেন্টজউ (সিনেমা: আ ডে ইন দ্য লাইফ অব জো: চ্যাপ্টার ফেড্রা)

সেরা অভিনেতা: রিকার্দো স্কামারসিও (সিনেমা: দ্য চিলড্রেন অব দ্য মাংকি)

সেরা অভিনেত্রী: লালেহ মারজবান (সিনেমা: ফলিং হাউস)

পড়ুন:কিংবদন্তি অভিনেতা আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুবাষির্কী আজ

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন