কিংবদন্তি অভিনেতা আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুবাষির্কী আজ

বাংলা চলচ্চিত্রের মুকুটহীন সম্রাট হিসেবে খ্যাতি অর্জন করা বর্ষীয়ান অভিনেতা আনোয়ার হোসেন। তিনি ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দের ৬ নভেম্বর জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার দুরমুঠ ইউনিয়নের এক প্রত্যন্ত গ্রাম সরুলিয়ার মিয়াবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা এ কে এম নাজির হোসেন ছিলেন সাব-রেজিস্ট্রার এবং মাতা সাঈমা খাতুন ছিলেন গৃহিণী। তিনি পিতা-মাতার তৃতীয় সন্তান। ডাকনাম আনু।

বিজ্ঞাপন

আনোয়ার হোসেন ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক, নাট্যধর্মী, লোককাহিনিভিত্তিক, পোশাকি ফ্যান্টাসি, সাহিত্যনির্ভর, শিশুতোষ, পারিবারিক মেলোড্রামা, বক্তব্যধর্মীসহ বিভিন্ন ধরনের চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে চিত্রায়িত তোমার আমার চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয়জীবনে প্রবেশ করেন। ঢাকার চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তি অভিনেতা ৫২ বছরের অভিনয়জীবনে ৫ শতাধিক চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন।

কলেজজীবন থেকেই অভিনয়ে নাম লেখান আনোয়ার হোসেন। ‘পদক্ষেপ’ নামে একটি নাটকে অভিনয় করে সবার দৃষ্টি কাড়েন। এরপর চাকরি সূত্রে স্থায়ী হন ঢাকা। ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ‘এক টুকরো জমি’ নামে একটি নাটকে অভিনয় করেন। পরবর্তী সময়ে ঢাকা বেতারে অডিশন দিয়ে নির্বাচিত হন। অভিনয় করেন ‘হাতেম তাই’ নাটকে। মঞ্চনাটকেও তার সম্পৃক্ততা ছিল। ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে আনোয়ার হোসেনের সিনেমায় অভিষেক হয়।

সালাহউদ্দিন পরিচালিত ‘সূর্যস্নান’ সিনেয়ায় তিনি নায়ক হয়ে বড় পর্দায় আসেন। ১৯৬১ থেকে ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ১৮টি সিনেমায় কাজ করেন তিনি। ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ সিনেমায় নবাবের চরিত্রে অভিনয় করে পান ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও খ্যাতি।

আনোয়ার হোসেন ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক, সাহিত্যনির্ভর, শিশুতোষ, লোককাহিনিভিত্তিক, পোশাকি ফ্যান্টাসি, পরিচ্ছন্ন সামাজিক, পারিবারিক মেলোড্রামা, বক্তব্যধর্মী—সব ধরনের সিনেমায়ই অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সূর্যস্নান’, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘জয় বাংলা’, ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’, ‘লাঠিয়াল’, ‘পালঙ্ক’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সুন্দরী’, ‘সকিনার যুদ্ধ’, ‘নাজমা’, ‘সূর্যগ্রহণ’, ‘সূর্যসংগ্রাম’, ‘দায়ী কে’, ‘সত্য মিথ্যা’ ইত্যাদি।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি প্রায় ৩৫০ সিনেমায় অভিনয় করেছেন। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন নিগার পুরস্কার। ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে একুশে পদক ও দুবার বাচসাস পুরস্কার। ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ সরকার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের পাশাপাশি আনোয়ার হোসেনকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করে।

২০১৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

পড়ুন : কিংবদন্তি লালনকন্যা ফরিদা পারভীন এর মৃত্যুবার্ষিকী আজ

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন