বিজ্ঞাপন

সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ, ‘মিথ্যা মামলা’র দাবি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার

বিজ্ঞাপন

মাদারীপুরের কালকিনিতে ১৫৮ নম্বর চর আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ নানা অভিযোগ তুলেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি আক্তার। একই সঙ্গে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে করা মামলাটিকে ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ দাবি করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন লিপি আক্তার। তিনি বলেন, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ইমাম হোসেন বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই তার উপস্থিতি, দায়িত্ব পালন, দাপ্তরিক কাজে সহযোগিতা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ওঠে। বিষয়গুলো নিয়ে তাকে সতর্ক করলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

লিপি আক্তারের অভিযোগ, ইমাম হোসেন নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না এবং অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। অনুমোদন ছাড়া ছুটি নেওয়া এবং বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ে বসে ধূমপান করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তার সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিপি আক্তার আরও দাবি করেন, ২ জুলাই বিদ্যালয় ছুটির পর অন্য এলাকায় ইমাম হোসেন হামলার শিকার হন। ওই ঘটনায় ৩ জুলাই তাকে প্রধান আসামি করে তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তবে ঘটনার সময় তিনি বিদ্যালয়ে দাপ্তরিক কাজে ছিলেন। হামলার সঙ্গে তার বা পরিবারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ইমাম হোসেনের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ও মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। এ ছাড়া কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক দুর্ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।এসব বিষয়ে কালকিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে হাজিরা খাতা, ছুটির আবেদন ও অনুমোদন, ফিডিং রেজিস্টার এবং অনলাইন ভিজিটর তথ্য যাচাই-বাছাই করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। নিরপেক্ষ তদন্তে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর অভিযোগ মিথ্যা হলে হয়রানিমূলক মামলা ও অভিযোগের বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

তবে এ সকল বিষয় জানার জন্য সহকারী শিক্ষক ইমাম হোসেনের মুঠোফোন একাধিকবার ফোন করো কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কালকিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবগত আছি। তাদের মধ্যে কী নিয়ে দ্বন্দ্ব, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা নেই। বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে পারব।’

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও অভিভাবকবৃন্দরা।

পড়ুন : ​ডিবি ওসিকে প্রত্যাহারে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম পাবনায় রাজপথে সাংবাদিকরা

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন