কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা ও পৌর শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করেছেন কমিটিতে থাকা আট নেতা। কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করার আগে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা সম্মতি নেওয়া হয়নি—এমন অভিযোগ তুলে তারা লিখিতভাবে পদত্যাগ করেছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে পদত্যাগকারীরা কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট নেতাদের কাছে লিখিত পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে পদত্যাগপত্রের অনুলিপি মেহেরপুর জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়কের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
পদত্যাগকারীদের দেওয়া লিখিত আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পদত্যাগকারীরা হলেন—গাংনী উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মজিরুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ষোলটাকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার পাশা, সাবেক দপ্তর সম্পাদক আব্দুল আলিম, সাবেক যুবলীগ নেতা আশিকুর রহমান আকাশ, আলমগীর বিশ্বাস রাহেল, লিখন উদ্দীন ও মাঝারুল ইসলাম। প্রকাশিত তথ্যে আটজনের পদত্যাগের কথা বলা হলেও পাওয়া তালিকায় সাতজনের নাম উল্লেখ রয়েছে।
এর আগে সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে গাংনী উপজেলা ও পৌর শাখা যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হয়। ঘোষিত কমিটিতে মোট ৭১ সদস্য রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কমিটিতে গাংনীর সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের ছেলে অ্যাডভোকেট হুমায়ন কবিরকে সভাপতি এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের গাংনী উপজেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
কমিটি প্রকাশের পরপরই বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যেই কমিটিতে থাকা কয়েকজন নেতা নিজেদের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। মঙ্গলবার দুপুরে তারা লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র পাঠানোর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিটিতে না থাকার বিষয়টি জানান।
পদত্যাগকারীদের মধ্যে মজিরুল ইসলাম, আনোয়ার পাশা ও আব্দুল আলিমকে কমিটিতে সহসভাপতি পদে রাখা হয়েছিল। আশিকুর রহমান আকাশকে সমাজকল্যাণ সম্পাদক করা হয়। এছাড়া আলমগীর বিশ্বাস রাহেল, লিখন উদ্দীন ও মাঝারুল ইসলামকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছিল।
পদত্যাগপত্রে তারা উল্লেখ করেন, কমিটিতে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। এমনকি কমিটিতে তাদের রাখা হবে—এ বিষয়ে তাদের সম্মতিও নেওয়া হয়নি। নিজেদের অজ্ঞাতসারে ও সম্মতি ছাড়া কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করার কারণেই তারা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করেন।
পদত্যাগকারীরা জানান, তারা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি মেহেরপুর জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়কের কাছেও লিখিত আবেদন পাঠিয়েছেন। কমিটিতে তাদের নাম রাখার বিষয়টি যেন প্রত্যাহার করা হয়, সে বিষয়েও তারা সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছেন।
এদিকে কমিটি প্রকাশের পর থেকেই নেতৃত্ব নির্বাচন ও কমিটির বিভিন্ন পদে ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা চলছে বলে স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে। বিশেষ করে যাদের সঙ্গে আলোচনা না করে কমিটিতে নাম রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তাদের কয়েকজনের পদত্যাগের ঘটনায় নতুন করে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও পদত্যাগকারীদের অভিযোগের বিষয়ে এখনো সংশ্লিষ্ট জেলা পর্যায়ের নেতাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত এবং পরবর্তীতে কয়েকজনের পদত্যাগের বিষয়ে জানতে মেহেরপুর জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়কের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাদের সঙ্গে কোনো মাধ্যমে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।
পদত্যাগকারীরা বলছেন, তাদের সম্মতি ছাড়া কোনো কমিটিতে নাম থাকা তারা গ্রহণ করছেন না। তাই কমিটি ঘোষণার পরপরই তারা লিখিতভাবে পদত্যাগ করেছেন। এখন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা বিষয়টি কীভাবে দেখছেন এবং প্রকাশিত কমিটিতে পদত্যাগকারীদের নাম পরিবর্তন বা সংশোধন করা হবে কি না, সেটিই দেখার বিষয়।
অন্যদিকে, মাত্র একদিনের ব্যবধানে একাধিক নেতার পদত্যাগের ঘটনায় গাংনী উপজেলা ও পৌর যুবলীগের নতুন কমিটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। কমিটি প্রকাশের পর আরও কেউ পদত্যাগ করবেন কি না, কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে কমিটিতে কোনো পরিবর্তন আনবে কি না—তা এখনো নিশ্চিত নয়।
তবে কমিটি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একাধিক নেতার পদত্যাগের ঘটনা সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ মনে করছেন। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না পাওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
পদত্যাগকারীদের দাবি, তাদের সঙ্গে আগে আলোচনা করা হলে কিংবা সম্মতি নেওয়া হলে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু তাদের মতামত না নিয়েই নাম অন্তর্ভুক্ত করায় তারা কমিটিতে থাকতে চান না। এ কারণে কমিটি প্রকাশের পরপরই তারা নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে লিখিত পদত্যাগপত্র দিয়েছেন।
এ ঘটনায় এখন গাংনী উপজেলা ও পৌর যুবলীগের ঘোষিত ৭১ সদস্যের কমিটি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেটিই দেখার বিষয়। কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা পদত্যাগকারীদের আবেদন গ্রহণ করবেন কি না এবং কমিটির তালিকায় সংশোধন আনা হবে কি না—এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।
পড়ুন : ইলিশ বাণিজ্যে নতুন সমীকরণ: গুজরাটের ইলিশ বাংলাদেশে, পদ্মার ইশিশ চায় ভারত
সা/


