গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৫৩ জন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এ তথ্য।
এতে বলা হয়— গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৮৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৭৭ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৩৯৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১৭৫ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১৭৪ জন, খুলনা বিভাগে ৩৪৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৮৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৫৩ জন, রংপুর বিভাগে ৫৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ৯ জন রয়েছেন।
এ নিয়ে চলতি বছরে ১৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৬ হাজার ৯১৬ জন।
ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে কীভাবে? এ ব্যাপারে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. সাইফুল্লাহ বলেন, ‘যেসব স্থানে মশা ডিম পাড়ে বা শূককীট বেড়ে ওঠে, সেগুলোকে ধ্বংস করতে হবে। তাই বাড়ির আঙিনা ও ঘরের ভেতরে যেকোনো পাত্রে জমে থাকা পানি তিন দিন অন্তর ফেলে দিতে হবে।’
ডা. মো. সাইফুল্লাহ বলেন, ‘প্লাস্টিকের নানা ধরনের পাত্র, কোমল পানীয়ের বোতল, কলাপসিবল গেটের নিচের অংশ, ফেলে দেওয়া টায়ারের অংশ, দইয়ের ফেলে দেওয়া পাত্র, ছাদবাগানের ফুলের টব, পানির মিটারের কাছের গর্ত, ডাবের খোসা, অব্যবহৃত কর্কশিট, সিরামিকের পাত্র, সিঁড়ির পাশের ভাঙা হাতল, যানবাহনের অংশ, গাড়ির গ্যারেজসহ অনেক কিছুতেই ডেঙ্গু মশার লার্ভা থাকে। এসব জায়গায় জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা জরুরি।’
মশার সংক্রমণ থেকে রেহাই পেতে কিছু ব্যক্তিগত সুরক্ষা উপায় সম্পর্কে বলেছেন আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান। সেগুলো হচ্ছে—
কিছু সুগন্ধ মশার একেবারেই অপছন্দ। বাজারে নানা রকম সুগন্ধি তেল পাওয়া যায়। এসবের মধ্যে ল্যাভেন্ডার, ইউক্যালিপটাস, লেমনগ্রাস ও পিপারমিন্টের গন্ধ মশা সহ্য করতে পারে না। ঘরে এসব সুগন্ধ ব্যবহার করলে মশা দূরে থাকবে। এ ক্ষেত্রে নিমের তেল বেশ কার্যকর।
মশার যন্ত্রণা থেকে রেহাই পেতে ঘুমানোর সময় ঘরের জানালা একেবারে বন্ধ করলে ঘরে বাতাস চলাচল ব্যাহত হয়। তাই সমাধান হিসেবে জানালায় লাগানোর জন্য নানা মাপের মশার জাল কিনে নেওয়া যেতে পারে।
মশা তাড়ানোর উপকরণ ব্যবহারে সতর্কতা
বাজারে মশা তাড়ানোর জন্য বিভিন্ন উপকরণ পাওয়া যায়। যেমন মশার কয়েল, স্প্রে, ত্বকে লাগানোর লোশন, কীটনাশক, পাওয়ার গার্ড মেশিন, কিলার ব্যাট, ম্যাজিক মশারি, কিলিং ল্যাম্প ইত্যাদি। তবে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. সাইফুল্লাহর মতে, এসব ব্যবহারে থাকতে হবে সতর্ক। কারণ, মশা তাড়াতে ব্যবহৃত বেশির ভাগ অ্যারোসল স্প্রেতে পাইরিথোয়েড নামের রাসায়নিক উপাদান থাকে। এটা বাষ্পীভূত হয়ে বাতাসে মেশে ও মশা তাড়ায়।
এমনিতে এর খুব ক্ষতিকর প্রভাব না থাকলেও একাধিক গবেষণায় দেখা যায়, এ ধরনের স্প্রের ব্যবহার হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস রোগীদের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর কয়েলের ধোঁয়ায় ফরমালডিহাইড, হাইড্রোকার্বনসহ আরও কিছু উপাদান থাকে, যেগুলোর নির্দিষ্ট পরিমাণের বাইরে গেলে তা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তবে শিশুদের ধারে-কাছে কয়েল না জ্বালানোই ভালো।
শিশুকে ডেঙ্গু থেকে রক্ষা করবেন যেভাবে
ডেঙ্গু মশাবাহিত ভাইরাল রোগ। সাধারণত বর্ষাকালে এর প্রকোপ বেড়ে যায়। তবে কয়েক বছর ধরে শুধু বর্ষাকালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই এডিস মশার আক্রমণ। বছরের অনেকটা সময় জুড়েই থাকছে ডেঙ্গুজ্বর। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার কথা হলো, চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যা অনেক বেশি।
মূলত এডিস মশার কামড় এড়িয়ে চলাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায়। এডিস মশা সাধারণত আবদ্ধ পানিতে বংশবৃদ্ধি করে। তাই মশার আবাসস্থল ধ্বংস করে মশার বংশবিস্তার প্রতিরোধ করতে হবে।
আপনার বাড়ির কাছাকাছি কোথাও এডিস মশার বংশবিস্তারের উপযোগী পানি জমে আছে কি না তা খেয়াল রাখুন।
৩ দিন পরপর পানির খালি বোতল, ফুলের টব, ভাঙা বালতি-মগ, পুরোনো টায়ার ও ডাবের খোলা প্রভৃতিতে জমে থাকা পানি ফেলে দিন।
শরীরের উন্মুক্ত স্থানে মশা ও অন্যান্য পোকামাকড় প্রতিরোধক ক্রিম বা স্প্রে ব্যবহার করুন। তবে এগুলো ব্যবহারের সময় শিশুর বয়স ও শিশুর ত্বকের জন্য ক্ষতিকর কি না সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখুন। প্রতিরোধক কেনার সময় প্যাকেটের গায়ে থাকা নির্দেশনা ভালোভাবে পড়ুন।
মশার কামড় থেকে বাঁচতে ঘুমানোর সময় শিশুর বিছানায় মশারি ব্যবহার করুন।
শিশু ঘরের বাইরে যাওয়ার সময় তাদের যথাসম্ভব গা ঢাকা পোশাক পরান। এক্ষেত্রে ফুলহাতা শার্ট ও টি-শার্ট, ফুল প্যান্ট, লম্বা ঝুলের ফ্রক, মোজা ও জুতা পরান।
প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনকে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতন করুন। তাদের বাড়ি-ঘর ও আশেপাশের এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখতে উদ্বুদ্ধ করুন।
স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন এবং শিশুর জ্বর হলে দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব ডেঙ্গু পরীক্ষা করুন।
পড়ুন : টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে আবারও ক্যাম্পেইন


