বিজ্ঞাপন

স্বামীকে তালাকের পর অন্য পরিবারের কাছে শিশুর দায়িত্ব, মা জর্ডানে, ৫ দিন পর বাবার কাছে সন্তান

বিজ্ঞাপন

২০২২ সালে পাবনার ফরিদপুর উপজেলার রামনগর গ্রামের মো. জাকিরুল ইসলামের সঙ্গে চাটমোহরের কুকরাগাড়ী গ্রামের শিমলা খাতুনের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের ঘরে জন্ম নেয় একমাত্র সন্তান সাহিদ হাসান।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে দাম্পত্য জীবনে তৈরি হয় নানা জটিলতা। একপর্যায়ে গত ২৮ জুলাই তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটে।

​বিচ্ছেদের পর পারিবারিক এই বিরোধের নেপথ্য কারণ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক।

শিমলা খাতুনের জানান তার স্বামী নিজে পরিকল্পিতভাবে তাকে ভিডিও কলে যুক্ত করিয়ে প্রবাসীদের সাথে অনৈতিক ফাঁদে ফেলতেন এবং তাদের ব্ল্যাকমেইল করে জোরপূর্বক অর্থ হাতিয়ে নিতেন। পরবর্তীতে টাকা প্রাপ্তির সাথে সাথেই অত্যন্ত ধূর্ততার সাথে ভুক্তভোগী প্রবাসীদের নম্বর ব্লক করে দেওয়া হতো। স্বামীর এই ধারাবাহিক অপকর্মের কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে চরম কলহ, অশান্তি ও তীব্র টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং অসহ্য দাম্পত্য কলহের জেরে তিনি সন্তানকে সাথে নিয়ে স্বামীর গৃহ ত্যাগ করে চলে যান।

অপরদিকে স্বামী জাকিরুল ইসলাম ব বলেন, এই ব্যবসাটি মূলত শিমলা খাতুন নিজেই প্রথমে শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে তাঁরই পরামর্শ ও প্ররোচনায় তিনি এই চক্রে জড়িয়ে পড়েন এবং উভয়ের পারস্পরিক সম্মতিতেই তারা এই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন।

সম্পর্কের অবসানের পর একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হন শিমলা খাতুন। তিনি জানান, তাঁর বাবা নজরুল ইসলাম আগেই মারা গেছেন এবং আপন কোনো ভাই নেই—তিন বোনের মধ্যে তিনি একজন। জীবিকার তাগিদে বিদেশ যাওয়ার আগে সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

​এরই অংশ হিসেবে, গত ৬ সেপ্টেম্বর নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সাহিদ হাসান জিহাদকে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার আতুয়া গ্রামের পল্লী চিকিৎসক আব্দুর রাজ্জাক ও তার স্ত্রী শিরিন বেগম কাছে বাচ্চা হস্তান্তর করেন বলে জানান তিনি।
দুদিন পর, গত ৮ সেপ্টেম্বর জর্ডানে পাড়ি জমান শিমলা খাতুন।

মায়ের বিদেশযাত্রার কয়েক দিন পর ১৫ সেপ্টেম্বর শিশুটির বাবা মো. জাকিরুল ইসলাম, পাবনা জেলার চাটমোহর থানা পুলিশ ও বড়লেখা উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল উদ্দিন ও ইউপি সদস্য আজিজুল ইসলামের সহযোগিতায় আতুয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের পরিবার থেকে শিশুটিকে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে শিশুটিকে পুনরায় নিজের কাছে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিজের সন্তানকে সাথে নিয়ে চলে যান মো. জাকিরুল ইসলাম।”

​সংশ্লিষ্টদের মতে, বাবা-মা নিজেদের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজেরা নিলেও অবুঝ এই শিশুটির নিরাপদে বেড়ে ওঠা, শিক্ষা, পরিচর্যা ও স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

পড়ুন:কালিয়াকৈরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন