সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) হামলার পর প্রধান বিমানবন্দরের কাছে আগুন ও আকাশে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। এর আগে রাতভর রাজধানীর সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সতর্কতা জারি করেছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ।
রয়টার্সের ভিডিও ও ছবিতে হামলার এলাকায় আকাশের দিকে বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। সামনে ছিল বিমানবন্দরের সড়ক, প্রধান টার্মিনাল ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা। একপর্যায়ে জ্বালানি সংরক্ষণের ট্যাংকের পেছন থেকে আগুনের শিখাও দেখা যায়।
ইরান-সমর্থিত হুতি জুলাই থেকে সৌদি আরবে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে। তবে শনিবারের হামলার দাবি অনুযায়ী, চলমান উত্তেজনা শুরুর পর রিয়াদে এটিই তাদের প্রথম হামলা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিয়াদে হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি হুতি। তবে গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, লোহিত সাগরের বন্দরনগরী ইয়ানবুতে সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়েছে। ইয়েমেনের রাজধানী সানায় চালানো হামলার জবাব হিসেবে এসব অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
এদিকে হুতির সঙ্গে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, শনিবার ভোরে রিয়াদের দিকে হুতিদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ধ্বংস করা হয়েছে।
রিয়াদ ও রাজধানীর পূর্বে অবস্থিত আল-খারজ এলাকায় সম্ভাব্য আকাশ হামলার ঝুঁকি নিয়ে রাতভর ফোনে সতর্কবার্তা পাঠায় সৌদি সিভিল ডিফেন্স। শনিবার সকালে পরে সতর্কতা প্রত্যাহার করে জানানো হয়, বিপদ কেটে গেছে। রিয়াদের ওলায়া এলাকায় থাকা রয়টার্সের এক সাংবাদিকও সতর্কতা প্রত্যাহারের আগে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন।
ইয়েমেনের সবচেয়ে জনবহুল এলাকাগুলো এবং দেশটির বিস্তীর্ণ উত্তরাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে হুতি। জুলাইয়ে রিয়াদের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার পর থেকে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে তারা। এসব হামলায় লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
হুতিদের হামলায় সৌদি শহর, জ্বালানি অবকাঠামো ও নৌপরিবহন লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এতে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর পণ্য ও তেল রপ্তানির প্রধান বিকল্প লোহিত সাগরের নৌপথও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সৌদিকে সামরিক সহায়তার ইঙ্গিত তুরস্কের
জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, হুতিদের চলমান হামলার কারণে সৌদি আরবের সামরিক সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় তুরস্ক সৌদিকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি। পাকিস্তানও এই চুক্তির অংশ।
তবে তুরস্ক কী ধরনের সহায়তা দিতে পারে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। সম্প্রচারমাধ্যম এনটিভিকে ফিদান বলেন, ‘আমরা দেখছি যে সৌদি আরবের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর অত্যন্ত গুরুতর হামলা চালানো হচ্ছে। আমাদের চুক্তিতে একটি জোট গঠনের বিধান রয়েছে এবং এ বিষয়ে আমরা দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করছি… বিশেষ করে কিছু কারিগরি বিষয়ে তাদের সামরিক সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। এসব চাহিদা পূরণে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’
গত মাসে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ নামে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, তিনটি দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।
পড়ুন : রাজধানীর মিরপুরে ও বাড্ডায় বাসে আগুন
সা/


