নেত্রকোনা সদর উপজেলার পুকিরা মৌজায় শত বছরের পুরোনো পৈতৃক জমিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিনের পুরোনো খরিদকৃত জমি জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিজেদের জানমাল ও শেষ সম্বলটুকু রক্ষায় রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কে ব্যানার হাতে বৈরী আবহওয়া বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে ঘন্টকালব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয় এলাকাবাসী।
এদিন মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এবং জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপিও প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন অংশগ্রহনকারীরা।
দীর্ঘ এক শতাব্দী ধরে ইমরান বাশার ও শফিকুল ইসলাম গংদের পূর্বপুরুষরা জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি আনোয়ারুল ইসলাম সাগর, আল-আমীন, ওয়াজেদ আলী ফকির ও ফেরদৌস কবির রুবেলসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই জমিটি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। রাতের আঁধারে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চক্রটি পুকুর থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায় এবং জমিতে নিজেদের নামে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় এক বৃদ্ধ আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, এটি ইমরান বাশারের শত বছরের পুরোনো জমি, যা বর্তমানে আল-আমীন ও আনোয়ারসহ সিন্ডিকেট জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এলাকাবাসী চায় যার জমি সে-ই যেন পায় এবং অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে জমিটি যেন দ্রুত মুক্ত করা হয়।
অপর এক প্রতিবাদকারী জানান, নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইমরান বাশারের এক একর ২০ শতাংশ জমির ওপর ভূমিদস্যুরা তাণ্ডব চালিয়েছে। কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই তারা মাছ লুট করেছে এবং সাইনবোর্ড লাগিয়ে জবরদখল শুরু করেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভূমিদস্যুদের প্রতিহত করার আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা জানায়, পুকিরা মৌজায় এক একর ৬৩ শতাংশ জমি সিএস মূলে খরিদ করে ভোগদখল করছিল ভুক্তভোগী পরিবারটি। ১৯৮২ সালের বিআরএস জরিপে তা ভুলবশত অন্যের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়ে যায়। ভুলের প্রতিকার চেয়ে ২০১৫ সালে তারা নেত্রকোনা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ এক দশক আইনি লড়াইয়ের পর গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে আদালত ভুক্তভোগীদের পক্ষে ডিক্রি প্রদান করেন। বর্তমানে জমিটি নিয়ে আপিল মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের বিচারাধীন প্রক্রিয়ার প্রতি তোয়াক্কা না করেই প্রভাবশালী মহলটি গায়ের জোরে জমি দখলের অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, জমিতে তাণ্ডব ও মাছ লুটের সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করা হয়েছিল। খবর পেয়ে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও তারা কোনো কার্যকর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। প্রশাসনের এমন দৃশ্যমান নীরবতায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন পার করছেন। অবিলম্বে ভূমিদস্যুদের হাত থেকে পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষা এবং জীবনের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের কঠোর ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
পড়ুন : গোয়াইনঘাটে পরিত্যক্ত মর্টারশেলটি ধ্বংস করলো সেনাবাহিনী


