ভারতের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস ৯’-এ অংশ নিয়ে ব্যাপক পরিচিতি পান অভিনেত্রী, নৃত্যশিল্পী ও সংগীতশিল্পী নোরা ফাতেহি। পরবর্তী সময়ে বলিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করেন তিনি। নাচের পাশাপাশি অভিনয় ও সংগীতেও নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন এই তারকা। তবে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ‘বিগ বস’-এর মতো জনপ্রিয় রিয়েলিটি শোতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না নোরা। বরং শুরুতে অনুষ্ঠানটির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গিয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন নোরা নিজেই। তিনি জানান, তখন একাধিক প্রজেক্টে কাজ করলেও সঠিক পারিশ্রমিক পাচ্ছিলেন না। আর্থিক অনিশ্চয়তার সেই সময়েই তার কাছে আসে ‘বিগ বস’-এ অংশ নেওয়ার প্রস্তাব।
প্রথমে প্রস্তাবটি গ্রহণ করতে চাননি নোরা। কারণ, রিয়েলিটি শোতে অংশ নেওয়ার বিষয়টি তার ক্যারিয়ারের পরিকল্পনার সঙ্গে তখন খুব একটা সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। কিন্তু পরে তিনি বুঝতে পারেন, ‘বিগ বস’-এর মতো বড় একটি প্ল্যাটফর্মে অংশ নিলে একদিকে পারিশ্রমিক পাওয়া যাবে, অন্যদিকে দর্শকদের কাছে দ্রুত পরিচিত হওয়ার সুযোগও তৈরি হবে। এরপরই নিজের ক্যারিয়ারের কথা বিবেচনা করে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
তবে শুধু ‘বিগ বস’-এ অংশ নেওয়ার জন্য রাজি হননি নোরা। প্রস্তাব গ্রহণের আগে নির্মাতাদের সামনে একটি বিশেষ শর্তও রেখেছিলেন তিনি।
নোরা জানান, তার মূল আগ্রহ ছিল নাচের রিয়েলিটি শো ‘ঝলক দিখলা যা’-য় অংশ নেওয়া। তাই ‘বিগ বস’-এ যাওয়ার প্রস্তাব পাওয়ার পর তিনি বিষয়টি নিজের মতো করে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন।
নোরার ভাষায়, “রিয়্যালিটি শো খারাপ নয়। এটাও একটা মঞ্চ। বুদ্ধি করে ব্যবহার করতে পারলে খুব দ্রুত এখান থেকেও পরিচিতি পাওয়া যায়। আমি ‘ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি’ ছিলাম, তাই বেশি দিন সেখানে থাকার কথা ছিল না। ভাবলাম, এর বদলে অন্য কিছু পাওয়া যায় কি না।”
তিনি আরও জানান, ‘ঝলক দিখলা যা’-য় অংশ নেওয়ার প্রবল ইচ্ছা ছিল তার। একই চ্যানেলের অনুষ্ঠান হওয়ায় ‘বিগ বস’-এর প্রস্তাবকে তিনি সেই সুযোগ পাওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন।
নোরা বলেন, “আমি খুবই চাইতাম ‘ঝলক দিখলা যা’-য় যোগ দিতে। একই চ্যানেলের অনুষ্ঠান। তাই ওদের বলেছিলাম, আমাকে ‘ঝলক দিখলা যা’ দিতে হবে, তার বদলে আমি ‘বিগ বস’-এ অংশ নেব। তাই পরে আমি ‘ঝলক’-এ যোগ দিতে পেরেছিলাম।”
নোরার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, ক্যারিয়ারের শুরুর সময় থেকেই নিজের সুযোগ তৈরি করার বিষয়ে তিনি সচেতন ছিলেন। ‘বিগ বস’-এ অংশ নেওয়াকে শুধু একটি রিয়েলিটি শো হিসেবে না দেখে ভবিষ্যতের কাজের সুযোগ তৈরির একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখেছিলেন তিনি।
‘বিগ বস ৯’-এ নোরা ফাতেহি মূল প্রতিযোগীদের সঙ্গে শুরু থেকে ঘরে প্রবেশ করেননি। তিনি ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। ফলে শুরু থেকেই তিনি জানতেন, দীর্ঘ সময় এই শোতে থাকার সম্ভাবনা সীমিত।
তবে অল্প সময়ের উপস্থিতিকেও নিজের ক্যারিয়ারের জন্য কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছিলেন নোরা। রিয়েলিটি শোর জনপ্রিয়তা এবং দর্শকদের বিপুল আগ্রহকে তিনি নিজের পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখেছিলেন। পরবর্তী সময়ে নাচের জগতে তার পরিচিতি এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে উপস্থিতি সেই পথকে আরও প্রশস্ত করে।
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিজ্ঞতাও নোরার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি জানান, বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজ করলেও তখন তার পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে যখন ‘বিগ বস’-এর প্রস্তাব আসে এবং সেখানে অংশ নিলে পারিশ্রমিকের পাশাপাশি পরিচিতি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়, তখন সেটিকে তিনি বাস্তবসম্মত সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করেন।
‘বিগ বস’-এর পর ধীরে ধীরে ভারতীয় বিনোদন জগতে নিজের জায়গা তৈরি করেন নোরা ফাতেহি। বিশেষ করে তার নাচের দক্ষতা দর্শকদের নজর কাড়ে। বিভিন্ন গানের ভিডিও, চলচ্চিত্রের নাচের দৃশ্য এবং টেলিভিশন অনুষ্ঠানে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে তার।
পরবর্তীতে অভিনয়েও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন নোরা। পাশাপাশি সংগীত ও নৃত্যের ক্ষেত্রেও কাজ করেছেন তিনি। বর্তমানে ভারতীয় বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এই তারকা।
নোরার সাম্প্রতিক এই বক্তব্য আবারও সামনে এনেছে তার ক্যারিয়ারের শুরুর সময়ের সংগ্রামের গল্প। যে রিয়েলিটি শোতে যেতে প্রথমে অনিচ্ছুক ছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই অনুষ্ঠানকেই নিজের ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সোপান হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন তিনি। আর ‘বিগ বস’-এর প্রস্তাব গ্রহণের আগে ‘ঝলক দিখলা যা’-য় অংশ নেওয়ার শর্তটি দেখিয়ে দেয়, সুযোগ পেলেই সেটিকে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে কীভাবে যুক্ত করতে হয়, সে বিষয়ে শুরু থেকেই যথেষ্ট সচেতন ছিলেন নোরা।
পড়ুন:রাজেশের সুরে আট বছর পর নতুন গানে আসিফ
ইমি/


