বিজ্ঞাপন

জাবি সিন্ডিকেটে সদস্য মনোনয়ন: না জানিয়েই বিবৃতিতে সাবেক ছাত্রনেতাদের নাম ব্যবহারের অভিযোগ

বিজ্ঞাপন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) সিন্ডিকেটে রাষ্ট্রপতি মনোনীত সদস্য হিসেবে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহরীন আই খানকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে দেওয়া একটি বিবৃতিতে সাবেক কয়েকজন ছাত্রনেতার নাম ও স্বাক্ষর তাঁদের অনুমতি ছাড়াই ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। আজ সোমবার দুপুরে প্রচারিত ওই বিবৃতির বিষয়ে সাবেক চার ছাত্রনেতা দাবি করেছেন, তাঁরা এতে স্বাক্ষর করেননি এবং এ বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে কোনো আলোচনাও হয়নি।

জানা যায়, অধ্যাপক নাহরীন আই খানের একাডেমিক যোগ্যতা, গবেষণা, আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের তথ্য তুলে ধরে আজ দুপুরে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। ওই বিবৃতিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও ছাত্রদলের সাবেক ৩২ জন নেতার নাম ও স্বাক্ষর রয়েছে।

তবে বিবৃতি প্রকাশের পরপরই নাম থাকা কয়েকজন তাঁদের স্বাক্ষরের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক জাকসু ভিপি ও মওলানা ভাসানী হলের সাবেক ছাত্র সংসদ নেতা মো. রাজিব উল হালিম, মীর মোশাররফ হোসেন হল সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ড. ফারুক আহম্মদ শিপন, সাবেক ভিপি মো. আলমগীর হোসেন এবং আ ফ ম কামাল উদ্দিন হল সংসদের সাবেক ভিপি ওয়াহিদুজ্জামান মিলন।

এ বিষয়ে মো. রাজিব উল হালিম বলেন, ‘জাবির সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে নিয়োগের জন্য নাহরীন খানের নামের পক্ষে আমি কোনো স্বাক্ষর দিইনি। আমার সঙ্গে কারও কোনো আলাপ-আলোচনা হয়নি এবং কাউকে আমার হয়ে স্বাক্ষর করার অনুমতিও দিইনি।’

ড. ফারুক আহম্মদ শিপন বলেন, ‘নাহরীন খানের নামের পক্ষে কোনো স্বাক্ষর আমি করিনি। আমার নাম ও স্বাক্ষর কীভাবে সেখানে এল, তা আমার জানা নেই।’

মো. আলমগীর হোসেন ও ওয়াহিদুজ্জামান মিলনও একই কথা জানান। তাঁরা বলেন, কীভাবে তাঁদের নাম ও স্বাক্ষর বিবৃতিতে এসেছে, সে বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না।

এদিকে গত ১৯ সেপ্টেম্বর পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন রুনুকে রাষ্ট্রপতি মনোনীত সিন্ডিকেট সদস্য করার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে একটি আবেদন দেন সাবেক ছাত্রদল ও জাকসু নেতাদের একটি অংশ। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের পক্ষে দেওয়া আবেদন এবং অধ্যাপক নাহরীন আই খানের পক্ষের বিবৃতিতে একই চারজনের নাম ও স্বাক্ষর রয়েছে। অর্থাৎ একই ব্যক্তিরা প্রথমে অধ্যাপক জামাল উদ্দিন এবং পরে অধ্যাপক নাহরীন আই খানের পক্ষে দেওয়া নথিতে স্বাক্ষর করেছেন বলে দেখানো হয়েছে।

এ বিষয়ে নবম জাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মোখলেছুর রহমান বাদল বলেন, ‘অধ্যাপক নাহরীনের পক্ষের বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, তাঁদের বলা হয়েছিল সিন্ডিকেটে দুটি পদ রয়েছে। তাই একজনের পক্ষে স্বাক্ষরের পর অন্যজনের পক্ষে স্বাক্ষর করলেও সমস্যা নেই—এমনটি বুঝিয়ে তাঁদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। কিন্তু পরে দেখা যায়, বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসের বর্তমান অভ্যন্তরীণ বিষয় সম্পর্কে অনেক সাবেক নেতা নিয়মিত খোঁজ রাখেন না। ফলে তাঁদের এভাবে বুঝিয়ে স্বাক্ষর নেওয়া হয়ে থাকলে সেটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। আমরা যাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি, তাঁরা জানিয়েছেন, তাঁরা যে বিষয়টি বুঝে সম্মতি দিয়ে স্বাক্ষর করেছিলেন, পরে সেটি অন্যভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।’

পড়ুন : নদী পেরিয়ে স্কুল, সংকটে চরাঞ্চলের শিক্ষা কার্যক্রম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন