শৈশবের বন্ধুত্ব থেকে স্বপ্নের পথচলা—দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের সেই পথ পেরিয়ে একই বিদ্যালয়ের একই ব্যাচের চার বন্ধু একসঙ্গে এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়ে চিকিৎসক হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। তাদের এই সাফল্য শুধু চার পরিবারের আনন্দের কারণ নয়, এটি পুরো ফটিকছড়ির জন্যও এক অনন্য গর্বের মুহূর্ত।
ফটিকছড়ি পৌরসভার ধুরুং খুলশী লায়ন্স উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১৭ ব্যাচের এই চার মেধাবী শিক্ষার্থী হলেন—ইফফাত উদ্দিন ফাহাদ, কামরুল আল ফাহিম, শেফায়েত চৌধুরী সাকিব ও কেয়া বণিক প্রিয়া।
একই বিদ্যালয়ের একই ব্যাচে পাশাপাশি বসে পড়াশোনা, একসঙ্গে স্বপ্ন দেখা এবং জীবনের নানা প্রতিকূলতায় পরস্পরের পাশে থাকা—সময় গড়ানোর সঙ্গে তাদের বন্ধুত্ব রূপ নেয় সাফল্যের এক সুন্দর গল্পে। বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে উচ্চশিক্ষার ব্যস্ততায় চারজন চারদিকে ছড়িয়ে পড়লেও তাদের বন্ধুত্ব ও অভিন্ন লক্ষ্য অটুট ছিল।
চিকিৎসক হওয়ার এই পথটিও ছিল সহজ নয়। দীর্ঘ বছরের কঠোর অধ্যয়ন, নিয়মিত পরিশ্রম, পরীক্ষার চাপ এবং নানা ত্যাগের মধ্য দিয়ে তারা এগিয়ে গেছেন। তাদের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে বাবা-মায়ের নিরলস সমর্থন, পরিবারের ত্যাগ, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং নিজেদের অদম্য চেষ্টা।
ফাইনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর চার বন্ধুর সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরিবার, স্বজন, শিক্ষক, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়। একই বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী একই সময়ে চিকিৎসক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করায় ধুরুং খুলশী লায়ন্স উচ্চ বিদ্যালয়ও পেয়েছে বিশেষ গৌরব।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, “আমাদের চার শিক্ষার্থীর এই সাফল্যে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তারা বিদ্যালয়ে থাকাকালীনই মেধা, শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও পারস্পরিক সহযোগিতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। তাদের এই অর্জন বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। আমরা আশা করি, তারা ভবিষ্যতে দক্ষ ও মানবিক চিকিৎসক হিসেবে মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করবে এবং দেশের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিজেদের মেধা ও অর্জিত জ্ঞানকে শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এই চার তরুণ চিকিৎসক মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাবেন। বিশেষ করে নিজ এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত রোগীদের চিকিৎসাসেবায় ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশা তাদের পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।
কামরুল আল ফাহিম বলেন, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও ত্যাগের পর এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আজ আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমার বাবার স্বপ্ন ছিল আমাকে ডাক্তার বানানো! এই অর্জনের পেছনে আমার বাবা-মা, পরিবার, শিক্ষক ও বন্ধুদের অবদান সবচেয়ে বেশি। মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। ভবিষ্যতে একজন মানবিক চিকিৎসক হিসেবে মানুষের সেবা করতে চাই।”
শেফায়েত চৌধুরী সাকিব বলেন, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে এমবিবিএস ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। এই অর্জনের পেছনে বাবা-মায়ের দোয়া ও ত্যাগ, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং প্রিয়জনদের সহযোগিতা রয়েছে। বিশেষ করে পুরো শিক্ষাজীবনে যারা পাশে ছিলেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতে একজন দক্ষ ও মানবিক চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চাই।”
চার বন্ধুর এই অর্জন যেন প্রমাণ করে—একসঙ্গে দেখা স্বপ্ন, পরিশ্রম আর বন্ধুত্বের শক্তি কখনো কখনো চারটি আলাদা সাফল্যকে মিলিয়ে একটি এলাকার গর্বের গল্পে পরিণত করে।
পড়ুন : স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার পর জমে উঠেছে প্রচারণা


